সেউতায় অবৈধ অভিবাসন রোধে ভাসমান ব্যারিয়ার স্থাপন করল স্পেন
আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত স্পেনের ছিটমহল সেউতায় ক্রমবর্ধমান অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্পেনীয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে বিপুল সংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীর অনুপ্রবেশের চেষ্টার পর উপকূলীয় এলাকায় একটি ভাসমান ব্যারিয়ার বা কৃত্রিম বাধা নির্মাণ করা হয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় এই অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার এবং অনিয়ন্ত্রিত অনুপ্রবেশ রোধ করতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাদ্রিদ।
সেউতা ও মেলিয়া মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের জন্য অভিবাসীদের কাছে প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলগুলোতে মরক্কোর সীমান্ত পার হয়ে আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার মানুষ প্রবেশের চেষ্টা করছেন। স্পেনের সরকারি তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই সীমান্তে ব্যাপক চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশী যারা ছিটমহলটিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদের অনেককেই পরে মরক্কোর সীমান্তে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই বিপজ্জনক যাত্রাপথ পাড়ি দিতে গিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনাও কম নয়। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্যমতে, ইউরোপের উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এই ভাসমান ব্যারিয়ার নির্মাণের সিদ্ধান্তটি মূলত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি অংশ। এর আগে কাঁটাতারের বেড়া এবং নজরদারি ব্যবস্থা থাকলেও সমুদ্রপথে মানুষের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণে নতুন এই প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হলো। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে। তাদের মতে, শুধুমাত্র সীমানা প্রাচীর বা ব্যারিয়ার দিয়ে অভিবাসন সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং অভিবাসীদের মূল দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়নে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেউতা ও মেলিয়ার নিরাপত্তা ইস্যুটি স্পেন এবং মরক্কোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এক দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা এবং অন্য দিকে মানবিক দিক—সব মিলিয়ে স্পেন কর্তৃপক্ষকে এই ইস্যুতে বেশ জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ভাসমান এই ব্যারিয়ার কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, স্পেন সরকার কঠোর হাতে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোন নতুন কৌশল গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
