ইরানের সাথে নতুন আলোচনার প্রস্তাব ডোনাল্ড ট্রাম্পের: তেহরানের নীরবতায় বাড়ছে ধোঁয়াশা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সংকট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার একটি আকস্মিক প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আগামী সোমবার থেকেই এই নতুন কূটনৈতিক সংলাপ শুরু হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই হাই-প্রোফাইল কূটনৈতিক প্রস্তাবে এখন পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। ইরানের এই নীরবতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে এক নতুন সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতামূলক চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বারবার ভিন্ন প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাম্পের এমন আশাবাদী বা সমঝোতামূলক মন্তব্যের পরপরই বহুবার মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিমান হামলা ও সামরিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। ফলে ট্রাম্পের এই নতুন আলোচনার প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল কতটা গুরুত্বের সাথে নেবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সুনির্দিষ্ট কোনো কূটনৈতিক রোডম্যাপ ছাড়া কেবল মৌখিক বিবৃতির মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের জটিল বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে ইরান ও তার মিত্রদের সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরমে। এই পরিস্থিতিতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি সংলাপে বসতে বরাবরই কিছু পূর্বশর্ত দিয়ে আসছে, যার মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। ট্রাম্প প্রশাসন যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রতিশ্রুতি না দেয়, তবে ইরানের পক্ষে এই আলোচনায় যোগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণও যেকোনো ধরনের মার্কিন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠোর ভূমিকা পালন করে থাকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) নীতি গ্রহণ করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ঐতিহাসিক জেসিপিওএ (JCPOA) বা ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আস্থার সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প একদিকে কড়া সামরিক হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার সমঝোতার প্রস্তাব দিচ্ছেন, যা তার দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী কূটনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে নীরবতা বজায় রাখার অন্যতম কারণ হলো অতীতে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের তিক্ত অভিজ্ঞতা।
সোমবার থেকে প্রস্তাবিত এই আলোচনা আসলেই শুরু হবে, নাকি এটি কেবলই ট্রাম্পের আরেকটি রাজনৈতিক প্রচারণামূলক বক্তব্য হিসেবে শেষ হবে—তা দেখার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায় এখন তেহরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রস্তাবের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
