ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ওয়েলসের পথ অনুসরণ করে ফিফা প্রধান হিসেবে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। ইংল্যান্ডের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই অনড় অবস্থান আন্তর্জাতিক ফুটবল কূটনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এসেছে, যা ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং পরিবর্তনের হাওয়া জোরালো করে তুলেছে।
ফুটবল অঙ্গনের বিশ্বস্ত সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ফিফার কিছু বিতর্কিত নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণের পদ্ধতি নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। বিশেষ করে, ফিফার ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং বড় টুর্নামেন্টগুলোর রূপরেখা পরিবর্তনের একতরফা উদ্যোগের কারণে সদস্য দেশগুলোর একটি বড় অংশ নাখোশ। ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আগেই ইনফান্তিনোর কার্যক্রমে অনাস্থা জানিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছিল। এবার ইংল্যান্ডের মতো প্রভাবশালী ফুটবল বোর্ড সেই জোটে যুক্ত হওয়ায় ইনফান্তিনোর জন্য আগামী দিনে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি ফিফার বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ। ফুটবলের এই ঐতিহ্যবাহী সংস্থাটি বরাবরই আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ইংলিশ এফএ-র এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ফিফার অন্যান্য ইউরোপীয় ও লাতিন আমেরিকার সদস্য দেশগুলোর ওপরও গভীর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক দেশই এখন ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে এবং বিকল্প নেতৃত্বের সন্ধানে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে ফিফার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, পর্দার আড়ালে লবিং এবং আলোচনা জোরদার করা হয়েছে। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০১৭ সালে ফিফার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বেশ কয়েকবার বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও, তার কার্যকাল প্রায়শই নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজন এবং ক্লাব বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্তগুলো ফুটবল বিশ্বে তীব্র মেরুকরণের সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে ফিফার নির্বাচনী রাজনীতিতে এই সমর্থন প্রত্যাহারের প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
