মার্কিন প্রযুক্তি চুরির অভিযোগ: চীনা এআই প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের প্রযুক্তি গোপনে ব্যবহারের অভিযোগে চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ট্র্যাজারি বিভাগ। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনিক দপ্তর হোয়াইট হাউস চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘মুনশট’-এর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ‘ফ্যাবল’ মডেল অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলে। হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, ফ্যাবল মডেল থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত ও কৌশল প্রক্রিয়াজাত করে (ডিস্টিলেশন) মুনশট তাদের নিজস্ব ‘কিমি কে৩’ (Kimi K3) মডেলটি বিকাশ করেছে। এই ঘটনার পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কড়া বার বার্তা দেওয়া হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী (ট্রেজারি সেক্রেটারি) স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন যে, যেসব চীনা প্রতিষ্ঠান মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ এবং প্রযুক্তির অননুমোদিত ব্যবহার করে নিজস্ব মডেল তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবকদের অধিকার রক্ষা করতে দেশটির প্রশাসন যে কোনো ধরনের কঠোর নীতি প্রণয়ন বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে দ্বিধাবোধ করবে না। এই ক্ষেত্রে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মডেল ডিস্টিলেশন বা নলেজ ডিস্টিলেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি শক্তিশালী এআই মডেলের আউটপুট ব্যবহার করে অন্য একটি নতুন মডেলকে দ্রুত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে মূল গবেষণা ছাড়া কম খরচে উন্নত এআই মডেল তৈরি করা সম্ভব হয়। মার্কিন সরকারের দাবি, মুনশট অ্যালগরিদম চুরির মাধ্যমে তাদের ‘কিমি কে৩’ মডেলের সক্ষমতা রাতারাতি বাড়িয়ে নিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত আধিপত্য নিয়ে চলমান বিরোধের অংশ হিসেবে এই নতুন বিতর্ক দেখা দিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেমিকন্ডাক্টর ও এআই প্রযুক্তি খাতে ওয়াশিংটন ধারাবাহিকভাবে বেজিংয়ের ওপর নানা ধরনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে। এই পটভূমিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর নতুন হুমকি বেইজিং এবং ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন সরকারের সম্ভাব্য এই নিষেধাজ্ঞার ফলে চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক বাজারে নতুন বিপদের মুখে পড়তে পারে।
