ইরানের মিনাবে নারকীয় হামলার পাঁচ মাস: ১২০ শিশুর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারছে না স্বজনরা

ইরানের মিনাবে নারকীয় হামলার পাঁচ মাস: ১২০ শিশুর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারছে না স্বজনরা

ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সেই হামলার পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও সেখানকার বাতাস এখনো ভারী হয়ে আছে শোক আর কান্নার শব্দে। গত ফেব্রুয়ারিতে চালানো ওই বর্বরোচিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছিল ১২০ জন কোমলমতি শিশু, যা বিশ্বজুড়ে বিবেকবান মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। বিবিসি’র সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই করুণ অভিজ্ঞতার কথা। মিনাবের সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শোকার্ত মায়েরা এখনো সেই রাতের বিভীষিকা ভুলতে পারছেন না। তাদের কণ্ঠে কেবল একটিই প্রশ্ন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, ‘এই নিষ্পাপ শিশুদের অপরাধ ঠিক কী ছিল?’

হামলার ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, সেই মুহূর্তে শ্রেণিকক্ষে কী ঘটেছিল, তা কল্পনা করাও অসম্ভব। হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল চারপাশ। শত শত অভিভাবক তাদের সন্তানদের খোঁজে স্কুলে ছুটে এসেছিলেন, কিন্তু অনেকেই তাদের সন্তানের নিথর দেহ ছাড়া আর কিছুই ফিরে পাননি। একজন মা জানান, তার সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর সময় তিনি একবারের জন্যও ভাবেননি যে এটিই হবে তার সাথে শেষ দেখা। তার চোখে এখন কেবলই অন্ধকার।

তদন্তকারী সংস্থাগুলো হামলার পেছনে দায়ী পক্ষগুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করলেও, স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে ক্ষোভ ও হতাশা কাটছে না। তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন, যদিও শোকের গভীরতা বিচারিক প্রক্রিয়ার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। মিনাবের এই ট্র্যাজেডি কেবল একটি দেশের জন্য নয়, বরং গোটা মানবজাতির জন্যই এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মানসিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও, প্রিয়জন হারানোর এই ক্ষত সহজে শুকানোর নয়। বর্তমানে মিনাবের স্কুলের সেই বিধ্বস্ত শ্রেণিকক্ষগুলো যেন প্রতিটি মানুষের মনে এক দগদগে ক্ষতের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সমাজ এবং শিক্ষক সমাজ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো নৃশংস ঘটনা আর কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ কেড়ে নিতে না পারে।

Leave a Reply