ফিফার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: ইনফান্তিনোর বাণিজ্যিক কৌশলের তীব্র বিরোধিতা শীর্ষ কর্মকর্তার
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফায় নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার (COO) সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত একটি বিতর্কিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। মূলত ফিফার বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টের মালিকানায় ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির যে পরিকল্পনা ইনফান্তিনো গ্রহণ করতে চাচ্ছেন, তা নিয়ে সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন খোদ সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইনফান্তিনোর এই কৌশলগত পরিবর্তনের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। তবে ফিফার এই চিফ অপারেটিং অফিসার বিষয়টিকে ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফুটবল কোনো ব্যবসায়িক পণ্য নয় যে তা ব্যক্তিগত মুনাফালোভী বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করা যাবে। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই নীতিগত বিরোধের জেরে যদি তাকে চাকরি হারাতে হয়, তবুও তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন। তার মতে, স্বচ্ছতা এবং ফুটবলীয় ঐতিহ্যের চেয়ে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক স্বার্থ বড় হতে পারে না।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে ফিফার সংস্কার প্রক্রিয়া বেশ জটিল মোড় নিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ফুটবল বিশ্ব ফুটবলের সর্বময় ক্ষমতার এই সংস্থাটির আর্থিক স্বচ্ছতা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ইনফান্তিনো সাধারণত তার নতুন নতুন টুর্নামেন্ট এবং সম্প্রসারণমূলক পরিকল্পনার জন্য পরিচিত, যা প্রায়ই রক্ষণশীল ফুটবল মহলে বিতর্ক তৈরি করে। এবারের দ্বন্দ্বটি কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি ফিফার কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ফুটবলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিয়ে আসা হলে খেলার নিরপেক্ষতা এবং সাংগঠনিক স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফিফার এই শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করছেন, খেলার বৃহত্তর স্বার্থে ফুটবল সংস্থাগুলোর নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো উচিত, বাইরের কর্পোরেট হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নয়। এমন পরিস্থিতিতে ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে তা ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা হিসেবে ফিফার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ফিফার নির্বাহী কমিটি এবং সাধারণ সদস্য দেশগুলো এই মতবিরোধকে কীভাবে সামাল দেয় এবং ইনফান্তিনো তার বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন কি না।
