যুক্তরাজ্যে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী: লিটারপ্রতি ১৬০ পেন্সের রেকর্ড স্পর্শ
যুক্তরাজ্যের জ্বালানি বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটির মোটরগাড়ি চালকদের সংগঠন আরএসি (RAC)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আনলেডেড পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৬০ পেন্স বা ১.৬ পাউন্ডে পৌঁছেছে। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্যকে দায়ী করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বিশেষ করে ইরান সংলগ্ন অঞ্চলের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর থেকেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করছে, তবুও বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, তা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এর ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্রিটেনের খুচরা বাজারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। পরিবারগুলো ইতিমধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তার ওপর জ্বালানি তেলের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি তাদের বাজেট ব্যবস্থাপনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পরিবহন কোম্পানিগুলোও তাদের ভাড়ার হার পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে সামগ্রিক লজিস্টিক খাতে খরচ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বড় ধরনের ভর্তুকি বা নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা এখনো আসেনি। তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো সরকারের প্রতি জ্বালানি শুল্ক কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। যদিও বিশ্ববাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা যুক্তরাজ্যের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়, তবুও বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং বাজারের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি। চলমান এই সংকট কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এটি ব্রিটেনের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগের পারদ বেড়েই চলেছে।
পরিশেষে, জ্বালানি তেলের এই উচ্চমূল্য কেবল একটি গাণিতিক সূচক নয়, এটি প্রতিটি ব্রিটিশ নাগরিকের দৈনন্দিন খরচের ওপর সরাসরি আঘাত। যতক্ষণ না বিশ্ববাজারে তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে ফিরে আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের এই আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
