সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইথিওপীয় বন্দীদের বাঁচার আকুতি: আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইথিওপীয় বন্দীদের বাঁচার আকুতি: আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ

সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি থাকা একদল ইথিওপীয় নাগরিক তাদের আসন্ন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আশঙ্কায় তীব্র আতঙ্ক ও হতাশার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিবিসির কাছে সরাসরি যোগাযোগ করে এই বন্দীরা তাদের করুণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বন্দী জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং কনস্যুলার সহযোগিতার সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিজেদের অসহায় মনে করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের বিচারিক ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের উচ্চ হারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সৌদি আরবের আইনে খুন, মাদক পাচার, সশস্ত্র ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এই ইথিওপীয় নাগরিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিচার চলাকালীন সময়ে তাদের পর্যাপ্ত আইনি পরামর্শ বা দোভাষীর সহায়তা দেওয়া হয়নি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের পরিপন্থী। বন্দীদের দাবি, তারা এমন সব অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন যেগুলোর সঠিক তদন্ত বা প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুতর গাফিলতি ছিল।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বারবার সৌদি আরবের বিচার ব্যবস্থায় সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদানের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে সংস্থাগুলো মনে করে। ইথিওপীয় বন্দীদের এই আর্তনাদ মূলত সেই ব্যবস্থারই একটি অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। তারা পরিবারের কাছে ফিরতে চান এবং তাদের মামলার পুনঃতদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর আওতায় দেশটি যখন পর্যটন ও বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সচেষ্ট, তখন এই ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া আন্তর্জাতিক মহলে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং শরীয়াহ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তবুও বন্দীদের এই আকুতি বিশ্বজুড়ে মানবিকতার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইথিওপিয়া সরকারও এখন তাদের নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর চাপে রয়েছে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব এবং ইথিওপিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে শ্রমবাজারের চাহিদায় হাজার হাজার ইথিওপীয় শ্রমিক সৌদিতে কাজ করছেন, অন্যদিকে বিচারিক জটিলতায় তাদের জীবন হুমকির মুখে। এই সংকট নিরসনে উভয় দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ এবং বন্দীদের মানবাধিকার রক্ষায় আইনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। বন্দীরা জানিয়েছেন, তাদের এই শেষ চেষ্টার পেছনে একমাত্র উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের নিরপরাধ হওয়ার দাবিটি পৌঁছে দেওয়া।

Leave a Reply