লেগাসি ফিউনারেল স্ক্যান্ডাল: অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শিল্পে কঠোর আইনি বিধিনিষেধের দাবিতে সোচ্চার ভুক্তভোগীরা
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘লেগাসি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিউনারেল ডিরেক্টরস’-এর ভয়াবহ কেলেঙ্কারির ঘটনায় শোকাহত পরিবারগুলো নড়েচড়ে বসেছে। বর্তমানে মৃতদেহ ব্যবস্থাপনায় যে চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে, তা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং প্রচারণাকারীরা এখন সরকারের কাছে এই খাতে পূর্ণাঙ্গ আইনি বিধিনিষেধ বা ‘স্ট্যাচুটরি রেগুলেশন’ কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমানে এই শিল্পে যে স্ব-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্বল এবং এটি জনস্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ।
লেগাসি ফিউনারেল কেলেঙ্কারির ঘটনাটি মূলত মৃতদেহের অমর্যাদাকর সংরক্ষণ এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মকে কেন্দ্র করে উন্মোচিত হয়। তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির হুলের বিভিন্ন শাখায় মৃতদেহগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষিত ছিল না, যা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে এখন প্রশ্ন উঠেছে, কেন একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সেবা খাত দীর্ঘদিন ধরে কোনো শক্ত তদারকির বাইরে ছিল। প্রচারণাকারীরা বলছেন, এই খাতের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং নিয়মিত অডিট ব্যবস্থা চালু না করলে এমন বিপর্যয় বারবার ফিরে আসতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফিউনারেল শিল্পকে সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণের অধীনে আনা অপরিহার্য। বর্তমানে বেশিরভাগ ফিউনারেল ডিরেক্টর স্বেচ্ছায় কিছু কোড অফ প্র্যাকটিস মেনে চলেন, যা আইনত বাধ্যতামূলক নয়। সরকার এই শিল্পে সংস্কার আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও, ভুক্তভোগীদের দাবি—কাজে ধীরগতি তাদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা চাচ্ছেন এমন একটি আইনি কাঠামো, যেখানে প্রতিটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠান সরকারের নিবন্ধিত হতে বাধ্য থাকবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাদের লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ থাকবে।
২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সেবা একটি ক্রমবর্ধমান শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে গ্রাহকদের আস্থার সংকট দূর করতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। ভুক্তভোগীদের দাবি এখন রাজনৈতিক মহলেও আলোচিত হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন ভবিষ্যতে মৃতদেহের সঙ্গে এমন অসম্মানজনক আচরণ করার সুযোগ না পায়। পরিবারগুলোর এই লড়াই শুধুমাত্র বিচার পাওয়ার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে যেন অন্য কোনো পরিবারকে এমন নির্মম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে না হয়, সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। সামগ্রিকভাবে, এই সংকট ব্রিটিশ ফিউনারেল ইন্ডাস্ট্রির আমূল পরিবর্তনের দাবিকে জোরালো করে তুলেছে, যা এখন সময়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও আইনি দাবিতে পরিণত হয়েছে।
