চলচ্চিত্র নির্মাতা রবিন হার্ডি পুত্র জন হার্ডির আকস্মিক প্রয়াণ, শোকের ছায়া সিনেমা অঙ্গনে
চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক অপূরণীয় ও মর্মান্তিক সংবাদ হিসেবে, জনপ্রিয় কাল্ট হরর ছবি ‘দ্য উইকার ম্যান’-এর স্রষ্টার পুত্র এবং ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা জন হার্ডি সম্প্রতি এক আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই দুঃখজনক সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, তার এই চিরবিদায় এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন তার বহু প্রতীক্ষিত ও বহুল আলোচিত সিক্যুয়েল চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জন হার্ডি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই হঠাৎ প্রয়াণে ব্রিটিশ চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, শিল্পী এবং কলাকুশলীরা তাদের প্রিয় সহকর্মীর স্মরণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করছেন। জন হার্ডি তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তার সাম্প্রতিক প্রকল্পটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নিভৃতে কাজ করা এই নির্মাতার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝেও এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
আসন্ন সিক্যুয়েল চলচ্চিত্রটি জন হার্ডির কর্মজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। ১৯৭৩ সালের মূল কাল্ট ক্লাসিক ‘দ্য উইকার ম্যান’ ছবিটি বিশ্বজুড়ে সিনেমা ইতিহাসে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। সেই ঐতিহাসিক গল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের সামনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্যেই জন হার্ডি এই সিক্যুয়েলটি তৈরি করেছিলেন। ছবিটির মুক্তিকে কেন্দ্র করে বিগত কিছুদিন ধরেই চলচ্চিত্র মহলে বেশ উন্মাদনা ও কৌতূহল বিরাজ করছিল। তবে প্রিমিয়ারের ঠিক প্রাক্কালে নির্মাতার এমন আকস্মিক প্রয়াণ পুরো প্রজেক্টটিকে এক আবেগময় ও বেদনাবিধুর পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জন হার্ডির শেষকৃত্য এবং তার স্মরণে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হবে, যেখানে তার ঘনিষ্টজন ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। যদিও নির্মাতা নিজে তার জীবনকর্মের এই চূড়ান্ত সাফল্য দেখে যেতে পারেননি, তবে তার সৃষ্টি ও নিষ্ঠা দর্শকের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। তার আসন্ন চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে তার শিল্পসত্তা ও প্রতিভার মূল্যায়ন বিশ্বমঞ্চে অমর হয়ে থাকবে বলে আশা করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। এই কঠিন সময়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও তার পরিবারের প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ভক্তরা গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
