ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৫ জনের মৃত্যু ও ৪১ জন নিখোঁজ

ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৫ জনের মৃত্যু ও ৪১ জন নিখোঁজ

ইন্দোনেশিয়ার মাদুরা দ্বীপের উপকূলে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং একচল্লিশ জন নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় সময় অনুযায়ী দুর্ঘটনাটির পর পরই উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তৎপরতা শুরু করলেও প্রতিকূল পরিস্থিতি ও নিখোঁজদের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত না হতে পারার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ২৭০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে ফেরিটি নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা করেছিল এবং মাঝনদীতে হঠাতই এর ইঞ্জিনকক্ষ বা এর আশপাশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পুরো জলযানে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হাহাকার সৃষ্টি হয়।

উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের যৌথ প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত বহু যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আহত ও দগ্ধ যাত্রীদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা উপকূলীয় এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন এবং প্রিয়জনদের খোঁজে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়ার নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় নৌপথ যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়ায় সেখানে প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ছোট-বড় জলযান চলাচল করে থাকে। নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ঘাটতি এবং নজরদারির অভাবে অতীতেও দেশটিতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা বারবার গণমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দেশটির সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জলপথের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, বাণিজ্যিক জলযানগুলোর ফিটনেস এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরীক্ষা করার জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Leave a Reply