ল্যারি এলিসনের এআই জুয়া: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকল কি সাফল্যের শিখরে নাকি মহাবিপদে?

ল্যারি এলিসনের এআই জুয়া: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকল কি সাফল্যের শিখরে নাকি মহাবিপদে?

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট ওরাকলের (Oracle) প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ল্যারি এলিসন ৮১ বছর বয়সে এসে এক অভাবনীয় এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়িক খেলায় মেতেছেন। সিলিকন ভ্যালির এই বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব তার কয়েক দশকের পুরনো ডেটাবেস সাম্রাজ্যকে রাতারাতি একটি শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চালিত মহীরুহে রূপান্তরিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এই রূপান্তরের পেছনে রয়েছে বিশাল অংকের ঋণের বোঝা এবং অত্যন্ত আগ্রাসী বিনিয়োগ কৌশল, যা বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ল্যারি এলিসন তার সর্বস্ব বাজি ধরেছেন বর্তমানের এআই উন্মাদনার ওপর। যেখানে মাইক্রোসফট, গুগল এবং অ্যামাজনের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে ক্লাউড ও এআই বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিয়েছে, সেখানে ওরাকল কিছুটা দেরিতে হলেও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাদের সাথে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই দৌড়ে টিকে থাকতে এলিসন কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে এনভিডিয়া (NVIDIA) চিপ এবং বিশাল সব ডেটা সেন্টার স্থাপন করছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিশাল ব্যয়ের সিংহভাগই আসছে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসায়িক মুনাফা বা ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে ওরাকল একটি গভীর আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০০ সালের ডট-কম বুদবুদের সময় অনেক নামী কোম্পানি একইভাবে ঋণগ্রস্ত হয়ে দেউলিয়া হয়েছিল। বর্তমানের এআই বাবল বা বুদবুদ নিয়েও ঠিক একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেক অর্থনীতিবিদ। ল্যারি এলিসন কি এই বুদবুদের প্রধান শিকারে পরিণত হবেন, নাকি তিনি পুনরায় প্রমাণ করবেন যে বড় ঝুঁকি নেওয়ার মাধ্যমেই বড় সাফল্য আসে? এলিসনের সমর্থকদের দাবি, তিনি সবসময়ই বাজারের ভবিষ্যৎ বুঝতে দক্ষ এবং তার এই বিনিয়োগ ওরাকলকে আগামী দশকের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এআই পাওয়ারহাউস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

২০২৬ সালের বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ওরাকলের শেয়ার দরের অস্থিরতা এবং এআই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগই ল্যারি এলিসনের এই জুয়ার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে। বর্তমানে তিনি সরকারি পর্যায় থেকে শুরু করে বড় বড় কর্পোরেশনগুলোর জন্য এআই সমাধান প্রদানে মনোনিবেশ করছেন। তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন একটাই—ল্যারি এলিসন কি এআই বিপ্লবের নতুন মুখ হিসেবে অমর থাকবেন, নাকি তিনি বিশাল এক ঋণের জালে আটকে যাওয়া প্রযুক্তির এক ঐতিহাসিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবেন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হয়তো আমাদের খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।

Leave a Reply