মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের (এমসিইউ) জনপ্রিয়তম সুপারহিরো স্পাইডার-ম্যান হিসেবে টম হল্যান্ডের প্রত্যাবর্তন নতুন এক উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমাটিতে হল্যান্ডের অভিনয় দেখে ভক্তরা একবাক্যে স্বীকার করছেন যে, এটিই এখন পর্যন্ত তার জীবনের সেরা পারফরম্যান্স। ‘নো ওয়ে হোম’ (২০২১) এর বিশাল সাফল্যের দীর্ঘ বিরতির পর পিটার পার্কার হিসেবে হল্যান্ডের এই ফিরে আসা দর্শকদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমার কাহিনী বিন্যাস এবং চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় পরিপক্কতা দেখা গেছে। বিশেষ করে, আগের কিস্তিতে ডক্টর স্ট্রেঞ্জের জাদুতে পিটার পার্কারের অস্তিত্ব যখন পৃথিবী থেকে মুছে যায়, তারপর থেকে তার নতুন সংগ্রামের গল্পটি ভক্তদের আবেগী করে তুলেছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমাটিতে পিটারকে একজন নিঃসঙ্গ কিন্তু দৃঢ়চেতা নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কমিক বইয়ের মূল স্পাইডার-ম্যান চরিত্রের অত্যন্ত কাছাকাছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা মন্তব্য করছেন যে, হল্যান্ড এবার কেবল একজন সুপারহিরো হিসেবে নয়, বরং একজন শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা নিয়ে হলিউড বিশ্লেষকদের মধ্যেও ইতিবাচক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বড় পর্দার মারপিট বা স্ট্যান্টের চেয়ে এই সিনেমায় পিটার পার্কারের মানবিক দিক এবং তার ব্যক্তিগত ত্যাগের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক সমালোচক বলছেন, মার্ভেলের নতুন এই পর্যায় বা ফেজ-এ স্পাইডার-ম্যানের এই কিস্তিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নতুন করে প্রাণ দিয়েছে। স্পাইডার-ম্যানের চিরচেনা নিউ ইয়র্ক শহরের প্রেক্ষাপটে স্ট্রিট-লেভেল ক্রাইম ফাইটিং এবং পিটার পার্কারের দৈনন্দিন জীবনের জটিলতাগুলো দর্শকদের কাছে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে।
বক্স অফিসের তথ্যানুযায়ী, সিনেমাটি উদ্বোধনী সপ্তাহেই রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করার পথে রয়েছে। মাল্টিভার্স বা মহাজাগতিক লড়াইয়ের ভিড়ে স্পাইডার-ম্যানকে তার আদি ও অকৃত্রিম রূপে ফিরে পেতে পেরে উচ্ছ্বসিত সাধারণ দর্শকরাও। হলের ভেতর টম হল্যান্ডের প্রতিটি অ্যাকশন দৃশ্য এবং আবেগঘন মুহূর্তে ভক্তদের উল্লাস চোখে পড়ার মতো ছিল। অনেক ভক্ত মনে করছেন, এই সিনেমার মাধ্যমে হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যান ট্রিলজি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে যা ভবিষ্যতের এমসিইউ সিনেমার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিল।
সিনেমার সাফল্যের পাশাপাশি এর সঙ্গীত এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বা ভিএফএক্সের কাজও উচ্চ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কের গগনচুম্বী অট্টালিকাগুলোর মধ্য দিয়ে স্পাইডার-ম্যানের জাল বেয়ে উড়ে চলার দৃশ্যগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। সব মিলিয়ে, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ কেবল একটি ব্লকবাস্টার সিনেমাই নয়, বরং টম হল্যান্ডের অভিনয়ের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
