কানাডায় গুগল ম্যাপ দেখে ট্র্যাকিংয়ে গিয়ে বিপাকে পড়া তিন কিশোর উদ্ধার

কানাডায় গুগল ম্যাপ দেখে ট্র্যাকিংয়ে গিয়ে বিপাকে পড়া তিন কিশোর উদ্ধার

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে গুগল ম্যাপের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘ ও দুর্গম পাহাড়ি পথে হাইকিং করতে গিয়ে মারাত্মক বিপদের মুখে পড়া তিন কিশোরকে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী এই উদ্ধার অভিযানে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার দল অংশ নেয়, যা রাতের আঁধারে ওই কিশোরদের অবস্থান চিহ্নিত করে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ওই তিন কিশোর ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি পরিচিত কিন্তু অত্যন্ত বিপদসংকুল ট্রেইলে হাইকিং শুরু করেছিল। পাহাড়ি এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং দীর্ঘ পথের কথা মাথায় না রেখে তারা শুধুমাত্র একটি ডিজিটাল ম্যাপিং অ্যাপ বা গুগল ম্যাপের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে পথ চলতে শুরু করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল প্রায় পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হাঁটার পর গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু পথিমধ্যে তারা মূল ট্রেইল হারিয়ে গভীর জঙ্গলে এবং দুর্গম পাথুরে উপত্যকায় আটকে পড়ে।

নির্ধারিত সময়ে কিশোররা ফিরে না আসায় এবং তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে জরুরি সেবায় যোগাযোগ করা হয়। এরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ঘন জঙ্গল এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্থলপথে তাদের সন্ধান পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত একটি এয়ার রেসকিউ হেলিকপ্টার এবং থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির সহায়তায় গভীর রাতে পাহাড়ি উপত্যকা থেকে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি অন্ধের মতো নির্ভর করার পরিণতি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ। পাহাড়ি বা বুনো এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের অনুপস্থিতি এবং জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের ত্রুটির কারণে প্রতি বছরই বিশ্বজুড়ে অনেক অভিযাত্রী এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হন। বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে যেকোনো হাইকিং বা অভিযানের আগে স্থানীয় গাইড এবং প্রথাগত মানচিত্র ব্যবহার করার ওপর জোর দিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

Leave a Reply