উইমেন্স ওপেনে জাপানের জয়রথ: মার্শালের গায়ে বল লাগার নাটকীয় ফাইনালে হেনসেলেইটকে হারিয়ে শিরোপা জিতলেন কুয়াকি

উইমেন্স ওপেনে জাপানের জয়রথ: মার্শালের গায়ে বল লাগার নাটকীয় ফাইনালে হেনসেলেইটকে হারিয়ে শিরোপা জিতলেন কুয়াকি

জাপানের উদীয়মান গলফ তারকা শিহো কুয়াকি এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও নাটকীয় লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে উইমেন্স ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করেছেন। টুর্নামেন্টের ফাইনালে জার্মানির তারকা খেলোয়াড় এস্থার হেনসেলেইটের বিরুদ্ধে প্লে-অফের দ্বিতীয় হোলে নিজের স্নায়ু ধরে রেখে এই অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোনো জাপানি খেলোয়াড় হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুললেন কুয়াকি।

উইমেন্স ওপেনের এই আসরটি শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বিশ্বের বাঘা বাঘা গলফারদের পেছনে ফেলে শিরোপার মূল লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন কুয়াকি ও হেনসেলেইট। ম্যাচের শুরু থেকেই দুইজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। কখনো কুয়াকি এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তো কখনো হেনসেলেইট তাকে টপকে যাচ্ছিলেন। নির্ধারিত ১৮ হোল শেষে উভয়ের স্কোর সমান হওয়ায় ম্যাচটি অমীমাংসিত থাকে। এরপরই শুরু হয় রোমাঞ্চকর প্লে-অফ।

তবে এই প্লে-অফের মাঝেই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ও নাটকীয় ঘটনা। জার্মানির হেনসেলেইট যখন তার শট নেন, তখন বলটি লাইনচ্যুত হয়ে সরাসরি মাঠের এক কর্মকর্তার (মার্শাল) গায়ে আঘাত করে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে খেলায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে এবং উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাটি হেনসেলেইটের মনোযোগে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটায়। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও জাপানি গলফার কুয়াকি নিজের পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করেন।

প্রথম প্লে-অফ হোলে দুই খেলোয়াড়ই সমানে সমান লড়াই করলেও দ্বিতীয় হোলে গিয়ে কুয়াকি তার অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। হেনসেলেইটের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সুযোগে কুয়াকি মাথা ঠান্ডা রেখে জয়সূচক পুটটি সম্পন্ন করেন এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

এই জয়ের মাধ্যমে জাপানি নারী গলফারদের বৈশ্বিক আধিপত্য আরও একবার প্রমাণিত হলো। গত বছরও জাপানের এক গলফার এই শিরোপা জয় করেছিলেন, আর এবার কুয়াকির হাত ধরে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রইল। গলফ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুয়াকির এই জয় জাপানি গলফের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। তরুণ এই খেলোয়াড় যেভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ম্যাচ শেষে ট্রফি হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত কুয়াকি বলেন, “এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। ফাইনালে এস্থার অত্যন্ত ভালো খেলেছেন এবং লড়াইটি সহজ ছিল না। বিশেষ করে প্লে-অফে অনেক চাপ ছিল, তবে আমি কেবল আমার স্বাভাবিক খেলার ওপর মনোযোগ দিয়েছিলাম।” এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে কুয়াকি বিশ্ব গলফ র‍্যাঙ্কিংয়েও নিজের অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন।

Leave a Reply