ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারকারী প্রথম দেশ ওয়েলস
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি পদে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ওয়েলস। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েলস (এফএডব্লিউ) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আসন্ন মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়ার প্রতি আর কোনো সমর্থন জানাবে না। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রথম কোনো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল ওয়েলস। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক মোড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে চলমান নানা বিতর্কের ওপর নতুন করে আলোকপাত করেছে।
২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের পতনের পর ফিফার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এরপর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের এই শীর্ষ কর্তার বিভিন্ন নীতি, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপ আয়োজন এবং পরবর্তীতে টুর্নামেন্টের আকার বাড়ানোর বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে ইউরোপীয় ফুটবল ইউনিয়নগুলোর একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। ওয়েলসের এই অনমনীয় অবস্থান সেই দীর্ঘদিনের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। এফএডব্লিউর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফুটবলের স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের স্বার্থেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওয়েলসের এমন সাহসী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অন্যান্য দেশের ফুটবল ফেডারেশনগুলোর ওপরও চাপ বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফিফার পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইনফান্তিনোর একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোও এমন অবস্থান নিতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়। অতীতে ইনফান্তিনোর বিভিন্ন নীতিমালার বিরুদ্ধে মৃদু সমালোচনা শোনা গেলেও কোনো দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘটনা এই প্রথম। ফিফা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো ওয়েলসের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্দরমহলে এই ঘটনা যে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণের সূচনা করল, সে বিষয়ে দ্বিমত নেই সংশ্লিষ্টদের।
