মহাখালীতে প্রেমিককে নৃশংসভাবে হত্যা: বিউটি আক্তার কারাগারে

মহাখালীতে প্রেমিককে নৃশংসভাবে হত্যা: বিউটি আক্তার কারাগারে

রাজধানীর মহাখালীতে প্রেমিকের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মামুন মিয়া (৩৩) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বিউটি আক্তারকে (৩০) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই তারেক হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বনানী থানার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন।

নিহত মামুন মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি পেয়েছিলেন এবং এক মাস আগে কর্মস্থলে যোগদান করেন। মামুনের চাচা মোকসেদ আলী ভূঁইয়ার ভাষ্যমতে, মামুন বিবাহিত এবং তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পারিবারিক ও কর্মজীবনের এই ব্যস্ততার মধ্যেই বিউটি আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা সম্পর্কে তার পরিবার আগে থেকে অবগত ছিল না।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১০ জুলাই বিউটি আক্তার চিকিৎসার অজুহাতে ঢাকায় এসে মহাখালীর টিবি গেট পূর্বপাড়া এলাকার একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় কক্ষ ভাড়া নেন। ঘটনার দিন ১১ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মামুন সেই বাসায় বিউটির সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে বিউটি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিয়ের বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিউটি একটি ধারালো চাকু দিয়ে প্রথমে মামুনের স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত করেন। এতে মামুন প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে লুটিয়ে পড়লে বিউটি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেটের বাঁ পাশে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।

মামুনের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ বিউটিকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় বিউটিও সামান্য আহত হয়েছেন, যার জন্য তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য ভবিষ্যতে বিউটিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন। বর্তমানে আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং তার পক্ষে কোনো জামিনের আবেদন করা হয়নি।