কাতারের সাবেক আমির শেখ খলিফার মৃত্যুতে বাংলাদেশে অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক
কাতারের সাবেক আমির শেখ খলিফা বিন হামাদ আল থানি’র প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই শোকের অংশ হিসেবে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একইসাথে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
শেখ খলিফা বিন হামাদ আল থানি ছিলেন আধুনিক কাতারের অন্যতম রূপকার। ১৯৭২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনামলেই কাতার প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কাতারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বনেতারাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কাতারে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে শেখ খলিফার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর শাসনামলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছিল। এই শোকের দিনে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং সরকারি প্রতিনিধিরা কাতারের রাজপরিবার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
উল্লেখ্য যে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার এই শোক পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস শোক পালন শেষে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। শেখ খলিফার মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান ঘটল, তবে তাঁর নেওয়া উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলো আজও কাতারকে বিশ্বমঞ্চে এক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আসীন রেখেছে। তাঁর প্রয়াণে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে দোহা এবং এর বাইরেও, যেখানে তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন।
