বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর
বাংলাদেশের বর্তমান সংকটময় সময়ে এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। সম্প্রতি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণে এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ এশিয়ার দুই দ্বীপ ও উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু উল্লেখ করেছেন যে, মালদ্বীপ সবসময়ই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে সম্মান জানায়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই দেশ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং মালদ্বীপের বর্তমান প্রশাসনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালদ্বীপের এই ঘোষণা কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার একটি বহিঃপ্রকাশ। পর্যটন, মৎস্য সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশের শ্রমবাজার এবং দক্ষ জনশক্তিকে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।
উভয় দেশের কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিষয়ে কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর এই ইতিবাচক মনোভাব বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য এক প্রকার কূটনৈতিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক আরও নিবিড় করার যে প্রয়াস বর্তমান সরকার গ্রহণ করেছে, মালদ্বীপের এই অঙ্গীকার তাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিশেষে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের এই সংহতি আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। দুই দেশের জনগণের কল্যাণে এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদী।
