ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ই. জিন ক্যারলকে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান: আইনি লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখক ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছেন। এই অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবং রায় স্থগিত করার প্রচেষ্টা আপাতত শেষ হলো। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে রায় overturning-এর চেষ্টা চালিয়েও তিনি সফল হননি, যার ফলস্বরূপ এই অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
এই মামলার সূত্রপাত হয় ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, যখন ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন যে ট্রাম্প নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। বহু বছর পর, ২০১৯ সালে, ক্যারল যখন জনসম্মুখে তার অভিযোগ প্রকাশ করেন, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে তার সম্মানহানি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন (battery) এবং মানহানির অভিযোগে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। ২০২৩ সালের মে মাসে, নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়নের জন্য দায়ী না করলেও, যৌন ব্যাটারির জন্য দায়ী হিসেবে রায় দেন এবং একই সাথে ক্যারলের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্যের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। জুরি ক্যারলকে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেন।
জুরি রায় ঘোষণার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখতে নানা আইনি কৌশল অবলম্বন করে আসছিলেন। তিনি নিম্ন আদালতে আপিল করেন এবং রায় কার্যকর হওয়া বিলম্বিত করার জন্য একাধিক আবেদন জানান। তার আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে এই রায় ত্রুটিপূর্ণ এবং আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থ পরিশোধের নির্দেশ স্থগিত রাখা উচিত। এমনকি, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টেও এই রায় overturning-এর জন্য আবেদন জানান, কিন্তু তার সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। সুপ্রিম কোর্ট তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে, ট্রাম্পের সামনে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।
এই ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধ ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য আইনি পরাজয় এবং ই. জিন ক্যারলের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপের মাধ্যমেও ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে রায় কার্যকর হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। এই ঘটনা মার্কিন বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে বলে অনেকে মনে করছেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এটি প্রথম কোনো দেওয়ানি মামলা, যেখানে তাকে সরাসরি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়েছে, যা তার ভবিষ্যতের আইনি লড়াইগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, এটিই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ই. জিন ক্যারলের একমাত্র মামলা নয়। প্রথম মামলার রায়ের পর, ট্রাম্প আবারও ক্যারলের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করেন, যার ফলস্বরূপ ক্যারল দ্বিতীয় আরেকটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের একটি জুরি ট্রাম্পকে ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেন, যা প্রথম মামলার চেয়ে অনেক গুণ বেশি। যদিও সেই বৃহত্তর অঙ্কের ক্ষতিপূরণও বর্তমানে আপিল প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে, তবে প্রথম মামলার ৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের ঘটনা ট্রাম্পের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে যে আইনি প্রক্রিয়া থেকে সহজে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ সীমিত।
এই অর্থ পরিশোধের ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান আইনি চ্যালেঞ্জগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি কেবল ক্যারলের মামলার একটি অংশ নয়, বরং ট্রাম্পের সামগ্রিক আইনি পরিস্থিতির উপরও প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাগুলোর প্রেক্ষাপটে। এই ঘটনা একদিকে যেমন ক্যারলের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফল, তেমনি অন্যদিকে ট্রাম্পের জন্য একটি কঠিন আইনি বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার ইঙ্গিত।
