যুক্তরাজ্যে কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে মেনিনজোকক্কাল বি (MenB) টিকা চালুর সুপারিশ বিশেষজ্ঞদের

যুক্তরাজ্যে কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে মেনিনজোকক্কাল বি (MenB) টিকা চালুর সুপারিশ বিশেষজ্ঞদের

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দেশটির সরকারের কাছে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে মেনিনজোকক্কাল বি (MenB) টিকা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান টিকাদান কর্মসূচিতে মূলত শৈশবকালীন সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হলেও, নতুন এই প্রস্তাবনায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির মতে, এই টিকা বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে মেনিনজোকক্কাল রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

মেনিনজোকক্কাল বি হলো এক ধরনের মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যা মেনিনজাইটিস এবং সেপটিসেমিয়ার মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এই রোগটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে শিশুদের শৈশবেই এই টিকা দেওয়া হলেও, বয়সের সাথে সাথে এর কার্যকারিতা কমে আসার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে কৈশোরে পদার্পণ করা তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষায় পুনরায় টিকার ডোজ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সরকারের কাছে পাঠানো এই সুপারিশে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা হলে তা জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে আবাসিক পরিবেশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেলামেশার কারণে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। এই উদ্যোগ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে মেনিনজাইটিসজনিত জটিলতা এবং মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন নীতি নির্ধারকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সরকার এই সুপারিশ গ্রহণ করে, তবে তা ব্রিটিশ স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি কেবল বর্তমান প্রজন্মের সুরক্ষাই নিশ্চিত করবে না, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবেও কাজ করবে। তবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে টিকাদান সক্ষমতা, বাজেট বরাদ্দ এবং লজিস্টিক প্রস্তুতির মতো চ্যালেঞ্জগুলোকেও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে হবে। সরকারি মহল থেকে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো না হলেও, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষ এবং অভিভাবকদের মধ্যেও এই নতুন প্রস্তাবনা নিয়ে বেশ আগ্রহ ও সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে।