লন্ডন সফর শেষে বাইয়্যু ট্যাপেস্ট্রির অবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ ফ্রান্সের
ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম বাইয়্যু ট্যাপেস্ট্রি (Bayeux Tapestry) সম্প্রতি এক বিশেষ পরিদর্শনের জন্য লন্ডন সফর সম্পন্ন করেছে। এই দীর্ঘ যাত্রার পর শিল্পকর্মটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এটি অত্যন্ত চমৎকার ও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। একাদশ শতাব্দীতে নির্মিত এই বিশ্বখ্যাত এমব্রয়ডারি শিল্পকর্মটি তার দীর্ঘ যাত্রাপথ এবং প্রদর্শনী শেষে কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সংরক্ষণাগারে ফিরে এসেছে, যা ইতিহাসবিদ ও শিল্পপ্রেমীদের জন্য এক স্বস্তির সংবাদ।
ফরাসি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্যাপেস্ট্রিটির রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর সূক্ষ্ম বুনন এবং বয়সের ভার বিবেচনায় একে যেকোনো প্রকার স্থানান্তর প্রক্রিয়ার আগে বিশেষ নিরাপত্তা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখা হয়। লন্ডনে তার সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে বিশ্বজুড়ে ইতিহাস গবেষক এবং শিল্পরসিকদের দৃষ্টি ছিল এর সুরক্ষার ওপর। তবে ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মতে, সমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করায় এই মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শনটি তার নিজস্ব মহিমা ও গুণমান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বাইয়্যু ট্যাপেস্ট্রি মূলত ১০৬৬ সালে ইংল্যান্ডে নরমান বিজয়ের ঘটনাপ্রবাহকে ফুটিয়ে তোলে। প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ এই শিল্পকর্মটিতে হ্যাস্টিংসে যুদ্ধের দৃশ্যসহ সেই সময়ের রাজনৈতিক ও সামরিক চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে এমব্রয়ডারির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়, বরং মধ্যযুগীয় শিল্পকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। বহু শতাব্দী ধরে এই ট্যাপেস্ট্রি ফ্রান্সের বাইয়্যু শহরে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এটি ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ রেজিস্টারের অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের প্রাচীন টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্পের স্থানান্তর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কারণ দীর্ঘ সময় আলো, আর্দ্রতা বা কম্পনের সংস্পর্শে থাকলে এর সুতোর বুনন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সাম্প্রতিক লন্ডন সফর প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করে অতি মূল্যবান শিল্পকর্মকেও নিরাপদে স্থানান্তর করা সম্ভব। বর্তমানে এটি ফ্রান্সে তার নিয়মিত প্রদর্শনী স্থানে পুনঃস্থাপিত হয়েছে, যেখানে দর্শকরা আবারও এই অমর শিল্পকর্মটি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সফরটি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
