ক্যাটফিশিং কী? অনলাইনে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচবেন যেভাবে

ক্যাটফিশিং কী? অনলাইনে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচবেন যেভাবে

ডিজিটাল যুগে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ সহজতর হলেও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি জটিল সমস্যা হলো ‘ক্যাটফিশিং’। মূলত অন্য কারও ছবি, নাম বা ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ইন্টারনেটে একটি নকল পরিচয় গড়ে তোলাকেই ক্যাটফিশিং বলা হয়। প্রতারকরা সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডেটিং অ্যাপ বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে। ভিকটিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা বা বন্ধুত্বের নাটক করে তাদের বিশ্বাস অর্জন করাই এসব অপরাধীর মূল উদ্দেশ্য।

ক্যাটফিশিংয়ের মাধ্যমে অপরাধীরা বিভিন্ন ধরনের উদ্দেশ্য হাসিল করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হয়রানি করার লক্ষ্যে ভুয়া আইডি খুলে তথ্য সংগ্রহ করে। আবার কখনো কখনো দীর্ঘদিনের সম্পর্কের দোহাই দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নেয়। বর্তমান সময়ে অনলাইনে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলের ঘটনাগুলোর পেছনেও ক্যাটফিশিংয়ের হাত রয়েছে। অপরাধীরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে ভুক্তভোগীর মানসিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে এই অপরাধ চালিয়ে যায়।

আপনি যদি ক্যাটফিশিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করেন, তবে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমেই সন্দেহজনক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিন। এরপর ওই প্রোফাইলটি সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করুন এবং ব্লক করে দিন। যদি বিষয়টি আর্থিক লেনদেন বা ব্ল্যাকমেইলের পর্যায়ে চলে যায়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ থানা বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ দায়ের করুন। অপরাধীর পাঠানো কোনো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না এবং কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল ছবি ও তথ্য শেয়ার করবেন না।

প্রযুক্তির এই সময়ে নিরাপদ থাকার সর্বোত্তম উপায় হলো সচেতনতা। অনলাইনে কারও সাথে পরিচয় হওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে তার সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করুন। প্রয়োজনে ভিডিও কলে কথা বলার অনুরোধ জানান। যদি অপরপক্ষ বারবার ভিডিও কলে আসতে অপারগতা জানায় বা অস্পষ্ট কারণ দেখায়, তবে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অপরিচিত কারো সাথে অর্থ লেনদেনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকা উচিত। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) সক্রিয় রাখা এবং অনলাইনে অত্যধিক ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতাই এই ধরনের ডিজিটাল প্রতারণার হাত থেকে বাঁচার প্রধান ঢাল।