ইউরোপের নতুন সীমান্ত ব্যবস্থায় দীর্ঘ ভোগান্তির মুখে পর্যটকরা: বিমান সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা

ইউরোপের নতুন সীমান্ত ব্যবস্থায় দীর্ঘ ভোগান্তির মুখে পর্যটকরা: বিমান সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর থেকে আকাশপথে ভ্রমণে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি ইইউ তাদের সীমান্তে নতুন একটি ডিজিটাল নজরদারি পদ্ধতি চালু করেছে, যার ফলে বিমানবন্দরগুলোতে পাসপোর্ট চেকিংয়ের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিমানবন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও তা এখন পর্যটন খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপের অন্যতম প্রধান বাজেট এয়ারলাইন রায়ানএয়ার (Ryanair) এ বিষয়ে যাত্রীদের সতর্ক করেছে। এয়ারলাইনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রীষ্মকালীন ছুটির এই মৌসুমে যারা ইউরোপে ভ্রমণে বের হচ্ছেন, তাদের পাসপোর্ট কন্ট্রোল পয়েন্টে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে। নতুন এই সীমান্ত ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি যাত্রীর বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আগের চেয়ে আরও কঠোর করা হয়েছে, যা যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ের গতি কমিয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু যাত্রীদের ব্যক্তিগত সময়ের অপচয়ই করছে না, বরং এর প্রভাব পড়ছে এয়ারলাইন্সের সময়সূচীর ওপরও। বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের লম্বা সারি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কিছু বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ ইতিমধ্যে সরকারকে এই প্রক্রিয়ায় গতি আনার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন যে, প্রক্রিয়াকরণ সময় দ্রুত না কমানো হলে পর্যটন মৌসুমে ইউরোপের বিমানবন্দরগুলোতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

নতুন এই ডিজিটাল সীমান্ত ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ইইউভুক্ত দেশগুলোতে অবৈধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করা। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, এই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত জনবলের অভাবের কারণেই মূলত পাসপোর্ট কন্ট্রোল এলাকায় দীর্ঘ জট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পিক আওয়ারে যাত্রীদের কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমানে ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ হলো, ফ্লাইটের সময়ের চেয়ে অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো এবং সম্ভাব্য দীর্ঘ অপেক্ষার জন্য ধৈর্য ধারণ করা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিস্টেমটি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই ধীরগতি অব্যাহত থাকতে পারে। গ্রীষ্মকালীন পর্যটন খাতের ওপর এই দীর্ঘসূত্রতার প্রভাব নিয়ে এখন সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এয়ারলাইনগুলো তাদের যাত্রীদের বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে যেন তারা অনলাইন চেক-ইন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতের কাছে রাখেন যাতে পাসপোর্ট কন্ট্রোলের জটিলতা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হয়।

Leave a Reply