গায়ানার উপকূলে ১১৬ যাত্রীসহ ফেরিডুবি: উদ্ধার অভিযান জোরদার

গায়ানার উপকূলে ১১৬ যাত্রীসহ ফেরিডুবি: উদ্ধার অভিযান জোরদার

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানায় একটি ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ১১৬ জন যাত্রী বহনকারী একটি ফেরি। দেশটির জর্জটাউন এবং পোর্ট কাইতুমার মধ্যবর্তী নৌপথে যাতায়াতকালে ফেরিটি উল্টে গিয়ে উত্তাল আটলান্টিক মহাসাগরের জলে ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং উপকূলরক্ষী বাহিনী এক যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৩ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা সমুদ্রের বিশাল এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে গায়ানার মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ দল। বৈরী আবহাওয়া এবং সমুদ্রের প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ পরিচালনায় বেশ বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ফেরিটি মাঝনদীতে পৌঁছানোর পরপরই হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং চোখের পলকেই তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত যাত্রী বা ফেরিটির যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য এরই মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গায়ানার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজদের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এলেও উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে না। নিবিড় তল্লাশি অব্যাহত রাখতে রাতেও ফ্লাডলাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ ওই অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য ফেরিই একমাত্র ভরসা। অনেক যাত্রীই দুর্ঘটনার সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করেছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই নৌপথটি গায়ানার উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘন ঘন ফেরি চলাচল করলেও নিরাপত্তার মানদণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে এই ধরনের জলপথগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উন্মোচনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিখোঁজ যাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা এখন সমুদ্র সৈকতে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন প্রিয়জনের সন্ধানে।

Leave a Reply