হাঙর সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ: পেল পেল ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল অনুদান

হাঙর সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ: পেল পেল ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল অনুদান

বিশ্বের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে হাঙর বা শার্ক প্রজাতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত মৎস্য শিকার এবং সমুদ্রের পরিবেশ দূষণের ফলে গত কয়েক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হাঙরের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং বিলুপ্তপ্রায় হাঙর প্রজাতিকে রক্ষায় যুক্তরাজ্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির সরকারি সংস্থা ‘ন্যাচারাল ইংল্যান্ড’-এর ‘স্পিসিস রিকভারি প্রোগ্রাম’ (Species Recovery Programme)-এর আওতায় হাঙর সংরক্ষণের জন্য সম্প্রতি ১ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই তহবিলটি মূলত ব্রিটিশ উপকূলবর্তী অঞ্চলে বিচরণকারী তিনটি প্রধান প্রজাতির ওপর আলোকপাত করবে: ব্লু শার্ক, পরবিগল এবং টোপ শার্ক। এই প্রজাতিগুলো বর্তমানে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত আহরণ এবং বাণিজ্যিক মৎস্য শিকারিদের জালে আটকা পড়ার মতো ঝুঁকির সম্মুখীন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রজাতিগুলো বাস্তুসংস্থানের ‘শীর্ষ শিকারি’ (Apex predator) হিসেবে কাজ করে, যা সমুদ্রের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে অপরিহার্য। যদি এই প্রজাতিগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১ মিলিয়ন পাউন্ডের এই অর্থ ব্যবহারের প্রধান লক্ষ্য হলো—এই তিনটি প্রজাতির বিচরণক্ষেত্র চিহ্নিত করা, তাদের প্রজনন প্রক্রিয়ার ওপর গবেষণা চালানো এবং মৎস্যজীবীদের সচেতন করা। ন্যাচারাল ইংল্যান্ডের বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক ট্রলারের জালে যেন এই হাঙরগুলো ভুলবশত আটকা না পড়ে, তার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও বিকল্প মৎস্য আহরণ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই হাঙরদের স্থানান্তর প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি বাড়াতে অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

পরিবেশবাদী ও সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির সুরক্ষা নয়, বরং পুরো সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষার একটি টেকসই মডেল হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পের আওতায় আগামী কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবে হাঙরের সংখ্যার ওপর জরিপ চালানো হবে। এই গবেষণার ফলাফল শুধু যুক্তরাজ্যের সমুদ্রসীমায় নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সামুদ্রিক আইন প্রণয়ন এবং হাঙর সংরক্ষণের নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রেও একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই বৈশ্বিক সংকটের সময়ে হাঙরের মতো শিকারি প্রাণীদের সুরক্ষা দেওয়া কেবল পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ সামুদ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার অন্যতম উপায়। সরকারের এই আর্থিক বিনিয়োগ এবং বিজ্ঞানীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ আগামী দিনে সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply