শিশু ভাতা দাবিতে অবহেলা: প্রতি সপ্তাহে হারাচ্ছেন প্রায় তিন হাজার টাকা, করণীয় কী?
যুক্তরাজ্যের এইচএমআরসি (HMRC) বা রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগের সাম্প্রতিক এক তথ্যে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর হাজার হাজার নতুন বাবা-মা সরকারি ‘চাইল্ড বেনিফিট’ বা শিশু ভাতার সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অবহেলার শিকার হচ্ছেন। অনেকেই সময়ের মধ্যে আবেদন না করায় প্রতি সপ্তাহে প্রাপ্য প্রায় ২৭ ব্রিটিশ পাউন্ড বা প্রায় ৪ হাজার টাকা হারাতেন। সঠিক সময়ে আবেদনের অভাবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকেই নির্দেশ করে।
চাইল্ড বেনিফিট হলো সরকার প্রদত্ত একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প, যা মূলত শিশুদের লালন-পালনের ব্যয়ভার কিছুটা লাঘব করার লক্ষ্যে দেওয়া হয়। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো যোগ্য পরিবার তাদের প্রথম সন্তান বা প্রতিটি পরবর্তী সন্তানের জন্য একটি নির্দিষ্ট হারে সাপ্তাহিক ভাতা পাওয়ার অধিকারী। তবে নিয়মটি হলো, শিশু জন্মের পরপরই কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এইচএমআরসি-র সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আবেদনের সময়সীমা পার হয়ে গেলে বকেয়া অর্থ পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে, যা অনেক পরিবারের জন্যই দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কেন বাবা-মায়েরা এই সুযোগ নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন? অনেক ক্ষেত্রেই জটিল আইনি প্রক্রিয়া, তথ্যের অভাব কিংবা প্রসব পরবর্তী ব্যস্ততাকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, তাদের আয়ের সীমা বেশি হওয়ায় তারা এই ভাতার জন্য যোগ্য নন, অথচ বর্তমান কর কাঠামোতে আবেদন করা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জন্য বাধ্যতামূলক। যারা উচ্চ উপার্জনকারী, তাদের জন্য ‘হাই ইনকাম চাইল্ড বেনিফিট চার্জ’ কার্যকর থাকলেও, প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু জন্মের তিন মাসের মধ্যে আবেদন করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এতে করে কোনো জটিলতা ছাড়াই ভাতার পুরো অর্থ পাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়া, যারা ইতোমধ্যে নিবন্ধন করতে দেরি করেছেন, তারা এইচএমআরসি-র সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করে দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে যেন অভিভাবকরা তাদের নিকটস্থ ট্যাক্স অফিস কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত আবেদন যাচাই করে নেন। সামান্য এই সচেতনতা প্রতি মাসে একটি বড় অঙ্কের অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে পারে, যা সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
পরিশেষে, সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণ কোনো করুণা নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রদত্ত এই সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের উচিত আজকের মধ্যেই তাদের যোগ্যতার বিষয়টি যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে এই সাপ্তাহিক ভাতার সুবিধা গ্রহণ নিশ্চিত করা।
