দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে তীব্র পানি সংকট: ২৪ লাখ গ্রাহকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা

দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে তীব্র পানি সংকট: ২৪ লাখ গ্রাহকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে তীব্র পানি সংকটের কারণে ‘সাউথ ইস্ট ওয়াটার’ কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৪ লাখ গ্রাহকের ওপর বাধ্যতামূলকভাবে ‘হোজপাইপ’ (পানির পাইপ) ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সাসেক্স, সারে, হ্যাম্পশায়ার এবং বার্কশায়ার কাউন্টির বিপুল সংখ্যক বাসিন্দা রয়েছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পানির অপচয় রোধ করতে এবং জরুরি প্রয়োজন মেটানোর স্বার্থে গৃহস্থালি কাজে বাগানের হোজপাইপ বা স্প্রিংকলার ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল করা হয়েছে। তবে সাধারণ জনগণ বালতি বা ক্যান ব্যবহার করে গাছের যত্ন নিতে পারবেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং গ্রীষ্মকালীন পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নদী ও জলাধারগুলোতে পানির প্রাপ্যতা কমে গেছে। সাউথ ইস্ট ওয়াটার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রীষ্মের দাবদাহে পানির ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তা স্থানীয় কৃষি এবং পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই যুগে পানি সাশ্রয় করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের সচেতনতার ওপর ভিত্তি করেই এই সংকটের মোকাবিলা করা সম্ভব। কর্তৃপক্ষ আগামী কয়েক সপ্তাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং পানির স্তর স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে। সাধারণ বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজনে সাশ্রয়ীভাবে পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply