খাবারে পিঁপড়ার ব্যবহার: দক্ষিণ কোরিয়ার মিশেলিন-তারকা রেস্তোরাঁ মালিকের কারাদণ্ডের শঙ্কা
খাবারের প্লেটে বিশেষ সাজ বা গার্নিশ হিসেবে জীবন্ত কিংবা মৃত পিঁপড়া ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগে আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক বিখ্যাত মিশেলিন-তারকা রেস্তোরাঁর মালিক। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই অভিজাত রেস্তোরাঁটিতে গত চার বছর ধরে বিভিন্ন পদের খাবার এবং ডেজার্ট তৈরিতে প্রায় ৪৯ হাজার পিঁপড়া ব্যবহার করা হয়েছে। ফুড সেফটি বা খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন এবং ভোক্তা অধিকারের নিয়মনীতি না মানার কারণে এই বিচারিক প্রক্রিয়ার সূত্রপাত হয়েছে। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেস্তোরাঁটি ক্রেতাদের আকর্ষণ করার জন্য এবং খাবারে ভিন্নধর্মী স্বাদ আনতে এই অভিনব কিন্তু অবৈধ উপাদানটি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশন করে আসছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত কঠোর খাদ্য বিধিমালা অনুযায়ী বাণিজ্যিক স্তরে এমন পোকামাকড় রান্নায় ব্যবহারের কোনো আইনি অনুমোদন নেই। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার পরিদর্শকরা বিষয়টি উদ্ঘাটন করার পর রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনার জেরে রেস্তোরাঁটির মালিকের বিরুদ্ধে জেল জরিমানাসহ কঠোর আইনি শাস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দেশটির গ্যাস্ট্রোনমি বা রন্ধনশিল্প মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক ও আলোচনা চলছে, যেখানে খাদ্য নিরাপত্তা এবং আধুনিক রান্নার ট্রেন্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আগামী দিনে আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে এই হাই-প্রোফাইল মামলার চূড়ান্ত পরিণতি।
