পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সাপের কামড় খাওয়ার পর সেই বিষধর প্রাণীটিকে পিটিয়ে মেরে এবং বস্তাবন্দি করে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে হাজির হয়েছেন এক তরুণ ও তাঁর পরিবারের লোকজন। তবে সৌভাগ্যবশত সাপটি নির্বিষ হওয়ায় ওই যুবককে কোনো ধরনের অ্যান্টিভেনম দিতে হয়নি। গত মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মনিগছ এলাকায় এই তরুণের বাঁ পায়ে সাপটি ছোবল দিয়েছিল।
আহত ওই যুবকের নাম নাজমুল ইসলাম (২৩)। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি এবং শালবাহান ইউনিয়নের শংকরপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের পুত্র।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে নাজমুলের এক আত্মীয় জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নাজমুলসহ মোট তিনজন ব্যক্তি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। তারা যখন পাকা রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ করেই নাজমুলের বাঁ পায়ে একটি সাপ কামড় বসায়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে নাজমুলের সঙ্গে থাকা অন্য দুই সঙ্গী সাহসিকতার সঙ্গে লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাপটিকে ঘটনাস্থলেই মেরে ফেলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দ্রুত যুবকের পা শক্ত করে বেঁধে এবং মৃত সাপটি সঙ্গে নিয়ে তাঁকে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সাপটি চেনার পর তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। বর্তমানে নাজমুল সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ আছেন।
তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শাকিল রহমান আজ বুধবার সকালে মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোগীর স্বজনেরা কামড় দেওয়া মৃত সাপটি সঙ্গে করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। সাপটি বিষাক্ত না হওয়ায় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে রোগীকে কোনো অ্যান্টিভেনম পুশ করার প্রয়োজন পড়েনি। বর্তমানে নাজমুল চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো রয়েছে।
