রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: চার্জ গঠনের সময় নতুন নাম জানালেন সোহেল রানা
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলায় চার্জ গঠনের দিন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। আদালতে হাজির করার সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি ‘ডলার’ নামে নতুন এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা দাবি করেন। তবে এই ব্যক্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিনের আদালতে আজ এই মামলার চার্জ গঠন করা হয়েছে।
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সোহেল রানা উচ্চস্বরে দাবি করেন, এই পৈশাচিক অপরাধে তিনি একা নন, বরং ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তি ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি নিজ মুখে স্বীকার করেন যে, তিনি নিজে অপরাধ করেছেন এবং এর জন্য তিনি শাস্তি পেতে প্রস্তুত, তবে ধর্ষণের দায় অস্বীকার করে সোহেল দাবি করেন যে, তিনি কেবল মৃতদেহ খণ্ডিত করার মতো জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, শিশুটিকে তার কাছে নিয়ে আসার বিনিময়ে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিল। যদিও বিচার চলাকালীন পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে আরও কথা বলা থেকে নিবৃত করেন। এছাড়া সোহেল তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের নির্দোষ হওয়ার দাবিও পুনরায় উচ্চারণ করেন।
চার্জ গঠনের পর বিচারক যখন অভিযোগগুলো পড়ে শোনান, তখন সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুন উভয়ই নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, আগামীকাল থেকে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাকে আদালতে জবানবন্দি প্রদানের জন্য তলব করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয় এবং স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ যুক্ত করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯ মে, যখন পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। পরদিন নিহতের বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সোহেল রামিসাকে কৌশলে নিজ কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। অপরাধ ঢাকার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সে শিশুটির গলা কাটে এবং দেহ বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চালায়। পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছিল। পরবর্তীতে মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের কাছে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়।
এই মামলার গুরুত্ব ও নৃশংসতার কারণে ঢাকা আইনজীবী সমিতি অভিযুক্তদের কোনো আইনি সহায়তা প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তী সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহকে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার দিকে এখন পুরো দেশের নজর রয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনের আগের সংস্করণে সোহেল রানার বক্তব্যের বর্ণনায় কিছু অসঙ্গতি ছিল, যা পরবর্তীতে সংশোধন করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসীসহ নিহতের পরিবার।
