লোহিত সাগরে সৌদি ট্যাংকারে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট

লোহিত সাগরে সৌদি ট্যাংকারে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের মালিকানাধীন দুটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ‘এনসেলিয়া’ এবং ‘লায়লা’ নামক দুটি ট্যাংকার। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ট্যাংকারগুলো সৌদি উপকূল থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছিল। হামলার পরবর্তী সময়ে ট্যাংকার দুটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো নাবিকের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। হুতি বিদ্রোহীদের ভাষ্যমতে, ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে এই সম্মিলিত অভিযান চালানো হয়েছে, যা জাহাজে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে।

এই হামলাকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে হুতিরা। তাদের দাবি, গত এক যুগ ধরে ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের চাপিয়ে দেওয়া অবরোধের জবাব এটি। হুতি নেতাদের মতে, এখন সময় এসেছে সৌদি আরবের ওপর পাল্টা অবরোধের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের। এই ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, যা এখন হামলার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট উত্তেজনার ফলে লোহিত সাগর ও ইয়ানবু বন্দর এখন জ্বালানি পরিবহনের প্রধান বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল, যা হুতিদের এই হামলার কারণে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সৌদি আরবের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর মাধ্যমে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ‘এনসেলিয়া’ জাহাজটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে আগুন ধরে গেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা সমস্ত ক্রু সদস্য বর্তমানে নিরাপদ আছেন এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব নিয়মিত পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু বন্দরে তেল নিয়ে আসছিল। এখান থেকে লোহিত সাগরের জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করা হতো। এর আগে বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানির প্রতি হুতিরা সতর্কতা জারি করে জানিয়েছিল, সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply