রেকর্ড ভাঙা খরায় বিপর্যস্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েলস: ১৯০ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর বা মেট অফিসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলস অঞ্চল বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শুষ্ক জুলাই মাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। গত ১৯০ বছরের রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৮৩৬ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিপাতের চরম ঘাটতি এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা জনজীবন ও পরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। কৃষি উৎপাদন, জলাধারগুলোর পানির স্তর এবং দাবানলের ঝুঁকি নিয়ে পরিবেশবিজ্ঞানীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘমেয়াদী এই খরা পরিস্থিতির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখছেন আবহাওয়াবিদরা। সাধারণত ব্রিটিশ গ্রীষ্মকালে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, জুলাই মাসে তার অর্ধেকেরও কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য ইংল্যান্ডের কৃষি জমিগুলো পানির অভাবে শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে, যা দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ নদী ও জলাধারের পানির স্তর অস্বাভাবিক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে পানির অপচয় না করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।
শুধু কৃষি নয়, এই নজিরবিহীন খরা দেশটির জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বনাঞ্চলগুলোতে দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দমকল বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইংল্যান্ডের মতো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এমন চরম আবহাওয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা বাড়ছে। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।
জনসাধারণকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা বাগানে পানি দেওয়া কিংবা গাড়ি ধোয়ার মতো কাজে বাড়তি পানি খরচ থেকে বিরত থাকেন। একইসঙ্গে, ব্রিটিশ সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামোগত পরিবর্তনের কথা ভাবছে, যাতে ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো যায়। বর্তমান জুলাই মাসের এই খরা কেবল সাময়িক অসুবিধা নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিরই একটি সতর্কবার্তা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে মেট অফিস।
