কনসার্টে ‘ফ্রি ফিলিস্তিন’ স্লোগান, সিঙ্গাপুরে নিষিদ্ধ ব্রিটিশ ব্যান্ড ম্যাসিভ অ্যাটাক

কনসার্টে ‘ফ্রি ফিলিস্তিন’ স্লোগান, সিঙ্গাপুরে নিষিদ্ধ ব্রিটিশ ব্যান্ড ম্যাসিভ অ্যাটাক

কনসার্ট চলাকালীন মঞ্চে ফিলিস্তিনের সমর্থনে অবস্থান নেওয়া এবং ‘ফ্রি ফিলিস্তিন’ (ফিলিস্তিন স্বাধীন করো) স্লোগান দেওয়ার অপরাধে বিখ্যাত ব্রিটিশ সংগীত দল ‘ম্যাসিভ অ্যাটাক’-কে দেশে প্রবেশ ও পরিবেশনায় অননির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। গত বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই নগর-রাষ্ট্রে আয়োজিত একটি সংগীতানুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ব্যান্ডটিকে ভবিষ্যৎ আয়োজনের বিষয়ে সতর্ক করে এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার রাতে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ওই কনসার্টে ব্যান্ডটির পরিবেশনা যখন শেষ পর্যায়ে, তখন মঞ্চে ব্যান্ডের সদস্যরা গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরিবেশনার একপর্যায়ে তারা প্রকাশ্যে ‘ফ্রি ফিলিস্তিন’ বলে স্লোগান দেন এবং সেখানে নিপীড়িত বেসামরিক মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলেন। একই সঙ্গে কনসার্টের পটভূমিতে প্রদর্শিত ভিজ্যুয়াল ভিজ্যুয়ালাইজেশনেও ফিলিস্তিনের সমর্থনে বার্তা প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি দর্শকদের একাংশের সমর্থন পেলেও দেশটির আইন প্রয়োগকারী ও বিনোদন নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর তাৎক্ষণিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সিঙ্গাপুরের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, যেকোনো সামাজিক বা সংস্কৃতিমূলক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক মন্তব্য করা অথবা বিদেশি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে জনসমক্ষে অবস্থান প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। দেশটির ‘পাবলিক এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাক্ট’ (জনবিনোদন আইন) অনুযায়ী সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সর্বসাধারণের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বা বিতর্কিত কোনো বার্তা প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। ঘটনার পরপরই সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সুযোগ নিয়ে এমন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া রাষ্ট্রের নিয়মনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ‘ম্যাসিভ অ্যাটাক’ ব্যান্ডকে ভবিষ্যতে আর কখনো সিঙ্গাপুরে শো করার অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে দেশটি ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে গঠিত ট্রিপ-হপ ঘরানার প্রভাবশালী সংগীত দল ‘ম্যাসিভ অ্যাটাক’ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক ইস্যুতে সোচ্চার থাকার জন্য পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে মানবাধিকার রক্ষা এবং ফিলিস্তিন সংকটের মতো বিষয়গুলোতে অতীতেও তারা একাধিক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেছে। ব্যান্ডের প্রধান সদস্যরা বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, কেবল বিনোদন নয়, বরং বিশ্বজোড়া ন্যায়বিচার ও মানবতা প্রতিষ্ঠা করাও তাদের শিল্পকর্মের একটি মূল অংশ। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কনসার্ট চলাকালে ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর সব সময়ই নিরপেক্ষতা রক্ষা এবং দেশের ভেতরে সামাজিক আইনশৃঙ্খলা সুসংহত রাখার নীতি অনুসরণ করে। আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতে চলমান গাজা-ইসরায়েল সংকটের বিষয়ে শিল্পীদের সরব হওয়ার প্রবণতা বাড়লেও কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এ ধরনের ইস্যু প্রদর্শনে কঠোর বার্তা দিলো সিঙ্গাপুর। ম্যাসিভ অ্যাটাকের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী শিল্পী সম্প্রদায়ের মুক্তচিন্তা প্রকাশ ও স্থানীয় আইনি সীমাবদ্ধতার মধ্যে তৈরি হওয়া জটিলতার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

Leave a Reply