ইউরোপে কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব: অর্থের বিনিময়ে খুন করছে অপ্রাপ্তবয়স্ক ভাড়াটে খুনিরা
ইউরোপজুড়ে অপরাধ জগতের এক নতুন এবং ভীতিকর প্রবণতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহারের সংস্কৃতি। সুইডেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সংঘটিত একাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পেছনে কুখ্যাত অপরাধ চক্র ‘ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক’-এর নাম উঠে এসেছে। তদন্তকারী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই অপরাধ সিন্ডিকেটটি ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৩৫টি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আধুনিক অপরাধজগতে ‘ভায়োলেন্স-অ্যাজ-এ-সার্ভিস’ বা চুক্তিতে সহিংসতা পরিচালনার অভিনব ও ভয়ংকর কৌশল গ্রহণ করেছে এই চক্রটি।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং এনক্রিপ্টেড বা গোপনীয় মেসেজিং অ্যাপগুলো ব্যবহার করে কিশোরদের টার্গেট করে। অনেক সময় পারিবারিক অভাব-অনটন, বঞ্চনা বা অপরাধপ্রবণ পরিবেশের সুযোগ নিয়ে অল্প বয়সী এই কিশোরদের বিশাল অঙ্কের অর্থ এবং বিলাসবহুল জীবনের প্রলোভন দেখানো হয়। আইনগতভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক কম শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়—এই ধারণাটিকেই অপরাধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে মাফিয়া চক্রগুলো। ফলস্বরূপ, চরম ঝুঁকিপূর্ণ এসব মিশনে স্কুলগামী কিশোরদের সহজেই ব্যবহার করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে সুইডেন এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলোতে গ্যাং কালচারের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশগুলোর সরকার ও পুলিশ প্রশাসন এই সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র দমনে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করছে। তবে অপরাধীরা তাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে নিত্যনতুন প্রযুক্তি ও কৌশল অবলম্বন করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুলিশ সংস্থা ইউরোপোল এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে অভিহিত করে আন্তঃসীমান্ত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং কঠোর আইন প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল পুলিশি অভিযানের মাধ্যমেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক পদক্ষেপ, কিশোর অপরাধপ্রবণতা রোধে কাউন্সেলিং এবং সাইবার স্পেসে অপরাধীদের নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
