মিলওয়াউকি থেকে নিখোঁজ কিশোরী চার বছর পর ভার্জিনিয়ায় উদ্ধার, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৬০টির বেশি মামলা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াউকি শহর থেকে প্রায় চার বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। ২০২২ সালে যখন ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়, তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। দীর্ঘ তল্লাশি ও তদন্তের পর চলতি বছরের মে মাসে ভার্জিনিয়া থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মানব পাচার, অপহরণসহ ৬০টিরও বেশি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে কিশোরীটির হঠাৎ অন্তর্ধানের পর থেকেই তার পরিবার ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ছিল। মামলাটি অমীমাংসিত থেকে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এর কোনো কূলকিনারা পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে গোয়েন্দা ও সাইবার অপরাধ দমন শাখার নিরলস প্রচেষ্টায় সম্প্রতি ভার্জিনিয়ায় তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরবর্তীতে ভার্জিনিয়ার স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সে শারীরিক ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিশেষ তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, অপহরণ এবং অবৈধভাবে বন্দি রাখার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে পকসো বা শিশু সুরক্ষাসংক্রান্ত একাধিক অপরাধের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা।
নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা ও নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানদের ডিজিটাল ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলে শিশু সুরক্ষার ফাঁকফোকরগুলো আরও স্পষ্টভাবে সামনে চলে আসবে।
