ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের ধর্মঘট: কানাডায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত

ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের ধর্মঘট: কানাডায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত

কানাডার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা ওয়েস্টজেট এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের আকস্মিক ধর্মঘটের কারণে দেশজুড়ে ও আন্তর্জাতিক রুটে বড় ধরনের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। বিমান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জন কেবিন ক্রুর প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান ইউনিয়নটির মধ্যকার দীর্ঘ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে যাওয়ার পর এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। মূলত উন্নত মজুরি কাঠামো, মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি এবং গ্রাউন্ডে থাকাকালীন বা প্রি-ফ্লাইট দায়িত্বের জন্য দীর্ঘদিনের বকেয়া ও অবৈতনিক কাজের ক্ষতিপূরণের দাবিতে কর্মীরা এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

ইউনিয়ন সূত্রের দাবি, এভিয়েশন খাতের বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় তাদের এই দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও করপোরেট কর্তৃপক্ষ তাদের ন্যায্য অধিকার ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে আন্তরিকতার পরিচয় দেয়নি, যার ফলে শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এই ধর্মঘটের কারণে ক্যালগারি ও ভ্যাঙ্কুভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কানাডার প্রধান প্রধান এভিয়েশন হাবগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। হাজার হাজার যাত্রী তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে এয়ারলাইন্সের কাউন্টারগুলোর সামনে ভিড় করছেন এবং বিকল্প ফ্লাইটের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, ওয়েস্টজেট এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এই ধর্মঘটকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বিমান সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, যাত্রী সাধারণের ভ্রমণ পরিকল্পনা সচল রাখতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রভাবিত যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরতের পাশাপাশি বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার কাজ চলছে। তবে চলমান এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে কানাডার সামগ্রিক পর্যটন খাত ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের শ্রম অসন্তোষ এয়ারলাইন্সগুলোর অপারেশনাল কার্যকারিতার পাশাপাশি ব্র্যান্ডের সুনামের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানছে। সংকট নিরসনে অবিলম্বে সরকারি মধ্যস্থতা বা পুনরায় ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply