ইউনিসেফ ও গ্যাভিকে সহায়তা পুনর্বহাল: বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ
বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে পুনরায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউনিসেফ (UNICEF), গ্যাভি (Gavi, the Vaccine Alliance) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর জন্য বরাদ্দকৃত এই তহবিল বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা খাতের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। যদিও সাম্প্রতিক এই সহায়তার পরিমাণ অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত বরাদ্দের তুলনায় বেশ কম, তবুও এটিকে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মুখে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে সবচেয়ে বড় অনুদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এই অনুদানের প্রবাহ অনেকটা সংকুচিত হয়ে এসেছিল। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অপুষ্টি দূরীকরণ, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি এবং জরুরি খাদ্য সরবরাহের মতো জীবনরক্ষাকারী কাজগুলো এই তহবিলের অভাবে অনেকাংশেই স্থবির হয়ে পড়েছিল। মার্কিন সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন, এই অর্থ সহায়তা অন্তত জরুরি ভিত্তিতে অপুষ্টির হার কমাতে এবং শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি সচল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে এই সহায়তা পুনর্বহালের পাশাপাশি এটি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে যে, এই সামান্য অনুদান কি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট? ২০২২ ও ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিগ্রহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে ক্ষুধা ও রোগের প্রকোপ বহুগুণ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের আর্থিক দায়বদ্ধতার পূর্ণ মাত্রায় ফিরে না আসে, তবে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যাবে।
ইউনিসেফের মতো সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে, আর্থিক সহায়তার অভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুদের মৃত্যুর হার ও অপুষ্টিজনিত জটিলতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গ্যাভি-এর টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম, বিশেষ করে মহামারীর পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পুনরায় অর্থায়ন শুরুর বিষয়টি অন্যান্য উন্নত দেশগুলোকেও তাদের অনুদানের প্রতিশ্রুতি পূরণে উৎসাহিত করতে পারে। আগামী মাসগুলোতে এই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি বৈশ্বিক মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা কয়েক কোটি মানুষের জীবন বাঁচাতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
