কমনওয়েলথ গেমস রক্ষায় গ্লাসগোর ঐতিহাসিক ভূমিকা, baton হস্তান্তর আমেদাবাদের কাছে
২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের দায়িত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর সংকট সাফল্যের সঙ্গে উত্তরণ করার পর, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের প্রধান কর্মকর্তারা এই ইভেন্টের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। নির্ধারিত সময়ে ও সীমিত বাজেটের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত পরিসরের গেমস আয়োজন করে স্কটল্যান্ডের এই শহরটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক বিরল নজির স্থাপন করেছে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্টগুলো যেভাবে বিশাল আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তাতে গ্লাসগোর এই মডেলটি আগামীদিনের আয়োজকদের জন্য একটি কার্যকর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের গেমস আয়োজনের কথা থাকলেও, বিপুল পরিমাণ বাজেট বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে তারা হঠাৎ করেই নাম প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে সমগ্র কমনওয়েলথ গেমসের ভবিষ্যৎ নিয়েই এক অনিশ্চয়তার কালো মেঘ জমেছিল। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে এগিয়ে আসে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহর। পূর্বের বিশাল কলেবরের তুলনায় গেমসকে অনেক বেশি সংকোচন করে, ইতোমধ্যে তৈরি থাকা ভেন্যুগুলোর ওপর নির্ভর করে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই আসর সফল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রীড়া সংস্থার কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে, অতিরিক্ত জাঁকজমক বা আকাশচুম্বী বাজেট ছাড়াই শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে সফলভাবে এমন বড় আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব।
গ্লাসগো আসরের সফল সমাপ্তির পর এখন নজর আগামী আসরগুলোর দিকে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী আয়োজক শহর হিসেবে ভারতের আমেদাবাদের কাছে গেমসের আনুষ্ঠানিক ‘ব্যটন’ বা মশাল হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমেদাবাদ ২০৩০ কিংবা পরবর্তী কোনো আসরের আয়োজনের মাধ্যমে কমনওয়েলথ গেমসের মানচিত্রকে দক্ষিণ এশিয়ায় আরও সুদৃঢ় করতে চায়। গ্লাসগোর অভিজ্ঞতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার এই কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আমেদাবাদও তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, গ্লাসগোর এই সীমিত বাজেটের সফল রূপায়ন কমনওয়েলথ গেমস আন্দোলনের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট বা মোড় পরিবর্তনকারী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
ভবিষ্যতে গেমস টিকিয়ে রাখতে হলে যে ব্যয় সংকোচন এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা জরুরি, গ্লাসগো তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে যেসব শহর এই মেগা ইভেন্ট আয়োজনের কথা ভাববে, তারা গ্লাসগোর এই মডেলকে অনুসরণ করে ঝুঁকি কমাতে পারবে। গেমস ভিলেজের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমিয়ে আনার মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো গ্লাসগো গেমসের মূল আকর্ষণ ছিল। এই সার্বিক সফলতার পর এখন সমস্ত দৃষ্টি ভারতের আমেদাবাদের দিকে নিবদ্ধ, যেখানে গেমসের ঐতিহ্যকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব উপায়ে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।
