মায়ের মরদেহ ফ্রিজারে লুকিয়ে রেখে দীর্ঘ বছর ধরে ৭৯ হাজার পাউন্ড সরকারি ভাতা হাতিয়ে নিলেন ছেলে
যুক্তরাজ্যে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে এক ব্যক্তি নিজ মায়ের মরদেহ ফ্রিজারে সংরক্ষণ করে রেখে বছরের পর বছর ধরে তার নামে বরাদ্দকৃত সরকারি ভাতা অবৈধভাবে উত্তোলন করেছেন। ক্রিস্টোফার ফিলিপস নামের ওই ব্যক্তি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হওয়ার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত ক্রিস্টোফার তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত সুকৌশলে গোপন করেছিলেন এবং তার মৃত্যুর পরও নিয়মিতভাবে সামাজিক নিরাপত্তা বা কল্যাণমূলক ভাতা (সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট) সংগ্রহ করে যাচ্ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে প্রায় ৭৮ হাজার থেকে ৭৯ হাজার পাউন্ড আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেশীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই বৃদ্ধা নারীকে দেখতে না পেয়ে এবং বাড়িতে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে এবং গোপনীয় অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই পরিবারটির বাড়িতে তল্লাশি চালায়। পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানোর সময় ফ্রিজারে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই মরদেহটি বাড়ির মালিক ওই বৃদ্ধা নারীরই। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত বা অন্য কোনো কারণে মায়ের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর সৎভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন না করে আর্থিক লোভে অন্ধ হয়ে এই ঘৃণ্য পথ বেছে নেন ক্রিস্টোফার।
এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুরো যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এভাবে ভাতা তুলে নেওয়া সম্ভব হলো, তা নিয়ে এখন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ এবং কল্যাণ তহবিল বিতরণকারী বিভাগগুলো এই ঘটনার গভীর তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত ক্রিস্টোফার ফিলিপসকে আটকের পর তাকে স্থানীয় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা, মৃতদেহের প্রতি অবমাননা এবং অবৈধ উপায়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ঘটনা আধুনিক সমাজে নৈতিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম সংকটের এক ভয়ংকর উদাহরণ।
