কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ৩০ বাংলাদেশি: উদ্বেগ বাড়ছে প্রবাসীদের মধ্যে
রাশিয়ায় কাজের সন্ধানে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। বিভিন্ন মাধ্যম ও দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে কাজের ভিসায় রাশিয়ায় পাড়ি জমানোর পর তাদের সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং বাংলাদেশি প্রবাসী মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়া যাওয়ার পর তাদের পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র কৌশলে কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বাংলাদেশিরা মূলত উচ্চ বেতনের চাকরির আশায় রাশিয়া গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। দালাল চক্রের সদস্যরা তাদের কাজের আশ্বাস দিলেও কার্যত তাদের রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে বাধ্য করা হয়েছে। বর্তমানে এদের অনেকেই রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছেন। কিছু ভুক্তভোগী গোপনে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন, যেখানে তারা জানিয়েছেন যে তারা স্বেচ্ছায় যুদ্ধে যাননি, বরং তাদের বাধ্য করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা হওয়ায় এবং রাশিয়ার কঠোর সামরিক আইনের কারণে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা বা তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিককে জোরপূর্বক যুদ্ধে নিয়োজিত করা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।
মানবাধিকার কর্মী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি মানবপাচারের একটি নতুন ও ভয়াবহ রূপ। সাধারণ কর্মজীবীদের টার্গেট করে তাদের যুদ্ধের ময়দানে ঠেলে দেওয়ার এই প্রবণতা বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও, এই ধরনের অমানবিক ঘটনায় কূটনৈতিক পর্যায়ে টানাপোড়েন সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং অসাধু চক্রের খপ্পরে না পড়ার পরামর্শ দিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার না হন, সেজন্য বিদেশ গমনেচ্ছুদের যথাযথ যাচাই-বাছাই ও বৈধ পথে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
