দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা অনন্য: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা অনন্য: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় জনগণের কাছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা অত্যন্ত সুগভীর বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব এবং দেশপ্রেমের অনন্য নজির স্থাপন করে সেনাবাহিনী আজ জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় কিংবা দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যেভাবে জীবন বাজি রেখে কাজ করেন, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।

সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আধুনিকায়নের বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে একটি যুগোপযোগী এবং সক্ষম বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শান্তিরক্ষী মিশনে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের এই অবদান দেশের জন্য বয়ে আনছে মর্যাদা ও গৌরব।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেনাবাহিনী কেবল দেশের সীমান্ত পাহারাই দেয় না, বরং অবকাঠামো উন্নয়ন, ত্রাণ বিতরণ এবং জাতীয় জরুরি প্রয়োজনেও তারা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেয়। বিশেষ করে করোনা মহামারি বা সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সেনাবাহিনীর মানবিক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। তিনি বাহিনীর সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

দেশের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময়ই একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও উন্নত ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হয়ে দেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে। জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর এই অংশগ্রহণ কেবল দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও পরোক্ষভাবে অবদান রাখছে। পরিশেষে, তিনি বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে তাদের দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতা বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।