নয়াদিল্লিতে বিমসটেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ: আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সমীকরণ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন বা বিমসটেকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশের এই জোটটি বর্তমানে আঞ্চলিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভারতের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সংহতি এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরতা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমারের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার যে রূপরেখা রয়েছে, তা আরও জোরদার করাই এবারের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের বাধা দূর করা, শুল্কমুক্ত সুবিধা বাড়ানো এবং পরিবহন অবকাঠামো বা কানেক্টিভিটি উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই জোটের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।
বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ দমন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও আলোচনার টেবিলে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিমসটেক সচিবালয়কে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই এই জোটের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের পাশাপাশি ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বঙ্গোপসাগরের বিশাল সম্পদ কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলো কীভাবে যৌথভাবে উপকৃত হতে পারে, তা নিয়েও বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিমসটেকের মতো প্ল্যাটফর্মে আরও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এই বৈঠকটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়, বরং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের একটি সুযোগ। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে যখন অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন আঞ্চলিক জোটগুলোর মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখা এবং আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিই হবে প্রতিটি দেশের প্রধান লক্ষ্য। বিমসটেকের এই বৈঠক শেষে সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে পারে, যা আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঢাকার প্রতিশ্রুতিকেই পুনর্ব্যক্ত করছে।
