এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানাল বাংলাদেশ

এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানাল বাংলাদেশ

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা পুনর্বিবেচনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এই বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছে নীতিনির্ধারকরা।

বাংলাদেশ বর্তমানে রপ্তানি বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে যেসব বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে, তা উত্তরণের পরপরই রহিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে এর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। সরকার মনে করছে, করোনা মহামারির ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। এই বাড়তি সময় দেশটিকে অভ্যন্তরীণ শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাজারের বহুমুখীকরণে সহায়তা করবে।

ইকোসকের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি মাইলফলক হলেও, তা যেন দেশের টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত না করে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠে আসা দেশগুলোকে একটি মসৃণ ও টেকসই উত্তরণের সুযোগ দেওয়া। বাংলাদেশ চায় যেন উত্তরণ-পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত বর্তমান সুবিধাগুলো বহাল রাখা হয়, যা অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই অবস্থান অত্যন্ত যৌক্তিক। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসা কোনো দেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জন করা সময়সাপেক্ষ। বাংলাদেশ যদি আরও কিছুটা সময় পায়, তবে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার এখন বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে এ বিষয়ে জোরালো কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ২০২৬ সালের পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।