এনএসটি ফেলোশিপ ২০২৬-২৭: এমএস, এমফিল ও পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ, জেনে নিন বিস্তারিত খুঁটিনাটি
দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের গবেষণা ও উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপের আবেদন আহ্বান করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকার অনুমোদিত স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউটে ভৌতবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং খাদ্য ও কৃষিবিজ্ঞানের আওতাভুক্ত মোট ২৮টি বিষয়ে গবেষণারত শিক্ষার্থীরা এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এমএস বা এমএসসি, এমফিল এবং পিএইচডি—এই তিনটি পর্যায়ে যোগ্য গবেষকদের এই আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন সাবমিট করতে পারবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফেলোশিপের জন্য যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে কিছু সুনির্দিষ্ট ও কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কোর্সের পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হতে হবে। কোনো ধরনের খণ্ডকালীন (পার্ট-টাইম) বা সান্ধ্যকালীন (ইভিনিং) কোর্সের শিক্ষার্থীরা এই ফেলোশিপের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। এমএস বা এমএসসি পর্যায়ে ফেলোশিপের মেয়াদ নবায়নের কোনো সুযোগ নেই এবং দ্বিতীয়বার মাস্টার্স করছেন এমন কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া, আবেদনকারীকে অবশ্যই এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হতে হবে। বিজ্ঞান বহির্ভূত অন্য কোনো বিভাগের শিক্ষার্থীদের আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে।
বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ডে এমএস বা এমএসসি কোর্সের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০-এর স্কেলে ন্যূনতম ৪.৫ অথবা প্রথম বিভাগ থাকতে হবে। স্নাতক বা সম্মান পর্যায়ে সিজিপিএ ৪.০০-এর স্কেলে ন্যূনতম ৩.৪ অথবা ৫.০০-এর স্কেলে ৪.২৫ (অথবা প্রথম শ্রেণি) থাকতে হবে। এই পর্যায়ে আবেদনের জন্য প্রার্থীর বয়স আবেদনের শেষ তারিখে অনূর্ধ্ব-৩০ বছর হতে হবে। অন্যদিকে, এমফিল ও পিএইচডি কোর্সের ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৫ বা প্রথম বিভাগ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩.২ (৪.০ স্কেলে) অথবা ৪.০ (৫.০ স্কেলে) বা প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। এমফিলের জন্য সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর এবং পিএইচডির জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
চাকরিজীবী গবেষকদের জন্যও এই ফেলোশিপে অংশগ্রহণের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে তারা কেবল এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে চাকরিজীবীদের অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটির প্রমাণক এবং দাপ্তরিক অনুমতিপত্র দাখিল করতে হবে। যথাযথ অনুমতি ছাড়া ভর্তি হওয়া কোনো চাকরিজীবী এই ফেলোশিপের আওতাভুক্ত হবেন না। এছাড়া, দ্বৈত সুবিধা রোধে আবেদনকারীকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা আপলোড করতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে তিনি অন্য কোনো সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের ফেলোশিপ বা গবেষণা অনুদান গ্রহণ করছেন না। এই অঙ্গীকারনামার নমুনা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.most.gov.bd) পাওয়া যাবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে গ্রেডিং সিস্টেমের বিষয়ে কিছু বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সনদে সিজিপিএ দশমিকের পর তিন সংখ্যা থাকলে তা দুই সংখ্যায় রূপান্তর করে দাখিল করতে হবে। এছাড়া মেডিকেল, ভেটেরিনারি বা ইংলিশ মিডিয়ামের মতো যেসব ক্ষেত্রে কেবল ‘পাসড’ বা ‘অ্যাওয়ার্ডেড’ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, সেসব ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর বা গ্রেডকে জিপিএ বা সিজিপিএ-তে রূপান্তর করে রূপান্তরিত ফলাফল জমা দিতে হবে। আবেদন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য প্রার্থীরা মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করতে পারেন। যেকোনো জিজ্ঞাসা বা কারিগরি সমস্যার জন্য support.most.gov.bd/en/login সাইটে পোস্ট করা যাবে অথবা নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে (+880 1713-157012, +880-1796-244-480) সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতি বছর এই ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং গবেষণামূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের ফলে ভৌত বিজ্ঞান থেকে শুরু করে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও কৃষি খাতে মৌলিক গবেষণার পরিধি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখছে। যোগ্য ও প্রতিভাবান গবেষকদের এই সুযোগ লুফে নিয়ে দেশের বিজ্ঞান চর্চাকে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
