চরম তাপপ্রবাহে কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে ইতালিতে ডেলিভারি রাইডারদের ধর্মঘট
ইতালির প্রধান শহরগুলোতে তীব্র দাবদাহের কবলে পড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গিগ ইকোনমির কর্মীরা। বিশেষ করে মিলান, বোলোনিয়া এবং ফ্লোরেন্সের মতো ব্যস্ত শহরগুলোতে ডেলিভারি রাইডাররা তাদের জীবন ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে এবং ন্যায্য মজুরির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড উত্তাপে যখন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে, তখন সাইকেল বা স্কুটারে করে খাবার ও পণ্য পৌঁছে দেওয়া রাইডারদের জন্য এক চরম শারীরিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, এই পরিস্থিতিতে রাইডারদের জন্য বিশেষ সুরক্ষানীতি এবং অতিরিক্ত ভাতার কোনো বিকল্প নেই।
দীর্ঘদিন ধরেই ইতালিতে ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের কর্মীরা ‘অ্যালগরিদমের দাসত্ব’ এবং অস্বচ্ছ মজুরি কাঠামো নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন। বর্তমান ধর্মঘটের অন্যতম কারণ হলো, তীব্র তাপপ্রবাহের সময় তাদের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকা। অধিকাংশ কোম্পানি রাইডারদের ‘ফ্রিল্যান্সার’ হিসেবে গণ্য করায় তারা শ্রম আইনের আওতায় যে সুরক্ষা পাওয়ার কথা, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে প্রচণ্ড গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই হিটস্ট্রোকসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দাবদাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাইডারদের জন্য বাধ্যতামূলক বিরতি এবং পর্যাপ্ত পানি ও ছায়াযুক্ত বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা না করলে কর্মবিরতি আরও দীর্ঘায়িত হবে।
এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে মজুরি বৈষম্যের দীর্ঘস্থায়ী ইস্যু। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডেলিভারি ফি না বাড়ানোয় অনেক রাইডারই এখন টিকে থাকার লড়াই করছেন। কোম্পানিগুলোর মুনাফার একটি বিশাল অংশ রাইডারদের পরিশ্রমে আসলেও, তারা সেই তুলনায় কোনো স্বাস্থ্য বিমা বা দুর্যোগকালীন আর্থিক সহায়তা পান না। এই বৈষম্য দূর করতে তারা সরকারকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর কঠোর নজরদারি এবং নতুন শ্রম আইন তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এর আগে গিগ কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় যেসব সুপারিশ করেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিও উঠেছে এই আন্দোলনে।
ইতালির শ্রমমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা অবশ্য পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে দাবি করেছেন। তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আলোচনার চেয়ে এখন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ বেশি প্রয়োজন। মিলানসহ অন্যান্য শহরে ধর্মঘটের ফলে স্বাভাবিক ডেলিভারি পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ইতালির এই আন্দোলন সফল হয়, তবে তা পুরো ইউরোপের গিগ ইকোনমির কর্মীবাহিনীর অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আসন্ন দিনগুলোতে কোম্পানিগুলোর সাথে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে ধর্মঘট আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
