কানাডায় ভয়াবহ দাবানলের কবলে ৮৩৮টি অঞ্চল: উত্তর আমেরিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত ধোঁয়া
কানাডার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে দাবানলের প্রাদুর্ভাব এক চরম সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। কানাডিয়ান ইন্টারএজেন্সি ফরেস্ট ফায়ার সেন্টারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ৮৩৮টি সক্রিয় দাবানল জ্বলছে, যা দেশটির পরিবেশগত ভারসাম্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ এবং বাতাসের তীব্র গতির কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকল বাহিনীর কর্মীরা। এই আগুনের ফলে সৃষ্ট ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়া কানাডার অন্টারিও প্রদেশ ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক তাপমাত্রার কারণে গত কয়েক বছরে কানাডায় দাবানলের তীব্রতা ও বিস্তার বহুগুণ বেড়েছে। আগুনের ধোঁয়ায় সৃষ্ট কমলা রঙের ধোঁয়াশা আকাশকে আচ্ছন্ন করে ফেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বাতাসের গুণমান সূচক (AQI) আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ও কানাডীয় কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কার্বন নিঃসরণ এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে দাবানলের এই সংকট মোকাবিলা করা আগামী দিনগুলোতে আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্টারিওসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বন বিভাগ এবং জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। তবে আগুনের উৎসস্থলগুলো অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় আকাশপথ থেকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিচালনা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। দাবানলের ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া শুধু বায়ুমণ্ডলের ক্ষতি করছে না, বরং এটি স্থানীয় বনজ সম্পদ এবং প্রাণবৈচিত্র্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই দাবানলকে পরিবেশগত বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনগুলোও সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে যাতে ধোঁয়ার প্রভাবে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় না ঘটে।
বর্তমানে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনবহুল এলাকাগুলোকে আগুনের হাত থেকে রক্ষা করাকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দাবানল নিয়ন্ত্রণে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। আকাশ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের মাস্ক ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার বড় একটি অংশে এই ধোঁয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন।
