কানাডায় স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের পরমাণু বাঙ্কার এখন বিলাসবহুল ‘ডুমসডে’ আবাসন
কানাডার নোভা স্কোশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্নায়ুযুদ্ধের সময় নির্মিত একটি সরকারি পারমাণবিক বোমা আশ্রয়কেন্দ্রকে সম্প্রতি এক আধুনিক এবং বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক সময়ের সামরিক এই গোপন আস্তানা এখন রূপান্তরিত হচ্ছে দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরের ‘ডুমসডে কন্ডো’ বা প্রলয়কালীন নিরাপদ আবাসস্থলে। মূলত চরম কোনো বৈশ্বিক দুর্যোগ বা পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি মাথায় রেখে ধনকুবেরদের জন্য এই বিশেষ বাঙ্কারটিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
ঐতিহাসিক এই কাঠামোটি মূলত ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনার সময় কানাডা সরকার নির্মাণ করেছিল। ভূগর্ভস্থ এই সুরম্য স্থাপনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা বড় ধরনের বায়ুমণ্ডলীয় বিপর্যয় ঘটলেও ভেতরে অবস্থানরত মানুষ সুরক্ষিত থাকে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর, বর্তমানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এটিকে একটি বাণিজ্যিক প্রকল্পের আওতায় নিয়ে এসেছেন। বিলাসবহুল জীবনযাপনের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা যেমন—আধুনিক জিম, ব্যক্তিগত সিনেমা হল, হাইড্রোফোনিক বাগান এবং অত্যাধুনিক এয়ার ফিল্টারেশন সিস্টেমের সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে ‘সারভাইভাল হোম’ বা নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। নোভা স্কোশিয়ার এই প্রকল্পটি কেবল একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নয়, এটি যেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে এক ধরনের বিমা। প্রতিটি ইউনিটের দাম আকাশচুম্বী রাখা হয়েছে, যা উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। এখানে বিদ্যুৎ ও পানির নিজস্ব স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও মাসের পর মাস জীবনধারণের নিশ্চয়তা দেয়।
এই প্রকল্পের সমালোচকরা অবশ্য এটিকে এক ধরনের ‘অভিজাত ভীতি’ বা উচ্চবিত্তের বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করছেন। তবে উদ্যোক্তারা মনে করেন, নিরাপত্তার জন্য বিনিয়োগ করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং নিরাপত্তার এই অদ্ভুত সংমিশ্রণ বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে নতুন ধারার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার জন্ম দিয়েছে। কানাডার এই বাঙ্কারটি এখন ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের এক মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে, যেখানে স্নায়ুযুদ্ধের স্মৃতি আর আধুনিক বিলাসিতা একই ছাদের নিচে অবস্থান করছে। ভবিষ্যতে এমন আরও প্রকল্প বিশ্বজুড়ে আবাসন শিল্পের নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
