তিন মাস বয়সী কন্যাশিশুকে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে মায়ের কারাদণ্ড
তিন মাস বয়সী নিজ কন্যাশিশু ডালিয়া-রোজকে হেয়ার ড্রায়ারের তাপে দগ্ধ করে হত্যার দায়ে ২৮ বছর বয়সী কোর্টনি গার্টশোরকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। অত্যন্ত মর্মান্তিক এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে শিশু নিরাপত্তা ও মাতৃত্বের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুরুতে অভিযুক্ত কোর্টনি গার্টশোর তার বিরুদ্ধে আনা অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং ফরেনসিক প্রমাণাদি শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, শিশু ডালিয়া-রোজের শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হেয়ার ড্রায়ারের অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, নবজাতক বা অত্যন্ত ছোট শিশুদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তীব্র তাপে দ্রুত অঙ্গহানি বা মৃত্যু হতে পারে। এই নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডের পেছনে অভিযুক্তের অবহেলা ছিল কি না অথবা এটি কি কোনো বিকৃত মানসিকতার ফসল, তা নিয়েও আদালতে দীর্ঘ তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। মামলার শুনানিকালে কৌঁসুলিরা যুক্তি তুলে ধরেন যে, একজন মা হিসেবে তার যে দায়িত্ব ছিল, তিনি তা পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই ঘটনাটি কেবল একটি আইনি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে কিছু বড় প্রশ্ন রেখে গেছে। শিশু সুরক্ষায় পারিবারিক সচেতনতার অভাব এবং পারিবারিক সহিংসতার ধরন কীভাবে রূপান্তর হচ্ছে, তা এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন যে, ডালিয়া-রোজের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যে নিষ্ঠুরতা দেখানো হয়েছে, তা অমার্জনীয়। মামলার রায় প্রদানের সময় আদালত কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
বর্তমানে এই রায় নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোও তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের মতে, শিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা রোধে সমাজকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে এবং পরিবারগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে, যেখানে শিশুরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকার কথা, সেই ঘরই যখন অনিরাপদ হয়ে ওঠে, তখন সামাজিক কাঠামোর দুর্বলতাগুলো প্রকট হয়ে ধরা দেয়। কোর্টনি গার্টশোরের এই দণ্ডাদেশ হয়তো শিশু ডালিয়া-রোজকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না, তবে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালত পরবর্তী ধাপে সাজা নির্ধারণের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
