ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম, ওদিকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি

ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম, ওদিকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি

দেশের অভ্যন্তরে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই ভারী বর্ষণ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা—এই দুই ভিন্নমুখী সংকটের মুখোমুখি বর্তমান সময়।

**ঢাকা ও চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি**
টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বৃষ্টিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ঢাকার মিরপুর, শেওড়াপাড়া, ধানমন্ডি, মতিঝিল ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গণপরিবহনের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী যাত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকায় নোংরা পানি উপচে পড়ছে রাস্তায়। অন্যদিকে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অবস্থা আরও শোচনীয়। চকবাজার, বহদ্দারহাট, শুলকবহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জোয়ারের পানি এবং অতিবৃষ্টির যৌথ প্রভাবে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

**ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ও পাহাড় ধসের শঙ্কা**
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে পাহাড় ধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে এবং মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টির এই অস্বাভাবিক ধরণ নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবাদীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

**মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা**
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় মার্কিন ঘাঁটির সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতির তীব্র বিরোধিতা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের জের ধরেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

**ভূরাজনৈতিক ও স্থানীয় সংকটের প্রভাব**
একদিকে দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও ভূরাজনীতির অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন-ইরান দ্বন্দ্বের ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশের ওপর পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবেলায় টেকসই নগর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।